আপনি পড়ছেন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করা এবং ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। গত রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিম তীরের আইনি ও নাগরিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনা। এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তগুলোকে ‘বিপজ্জনক’, ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘অপরাধমূলক’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ম্যাপে পশ্চিম তীরের অবস্থান

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘কান’ এবং ‘ইয়েদিওথ আহরোনোথ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিৎচের উদ্যোগে এই নতুন ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। অনুমোদিত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে জর্ডান আমলের একটি আইন বাতিল করা, যার মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ইহুদিদের কাছে ফিলিস্তিনিদের জমি বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। এছাড়া জমির মালিকানার নথিপত্র বা রেকর্ড উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ইসরায়েলি ক্রেতারা সরাসরি মালিকদের নাম জানতে পারেন এবং জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া সহজ হয়। এর ফলে জমির লেনদেনের জন্য বিশেষ ‘ট্রানজেকশন পারমিট’ বা লেনদেনের অনুমতির প্রয়োজনীয়তাও বাতিল করা হয়েছে।

ইয়েদিওথ আহরোনোথের মতে, এই পরিবর্তনগুলো পশ্চিম তীরে ভূমি নিবন্ধন ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন আনবে, যা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। ইসরায়েলি মন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিৎচ দাবি করেন, এই পদক্ষেপগুলো ‘বসতি স্থাপনকারীদের প্রতি বৈষম্যের অবসান ঘটাবে।’ অন্যদিকে ইসরায়েল কাটজ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তগুলো জুডিয়া ও সামারিয়াতে (পশ্চিম তীর) ইসরায়েলি উপস্থিতি শক্তিশালী করার একটি স্পষ্ট নীতি প্রতিফলিত করে।’

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ‘এরিয়া এ’ এবং ‘এরিয়া বি’-তে ইসরায়েলের তদারকি ও প্রয়োগ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি অনুযায়ী, এরিয়া এ সম্পূর্ণ ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রণে এবং এরিয়া বি ফিলিস্তিনি নাগরিক নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। কিন্তু ইসরায়েল এখন অবৈধ নির্মাণ, পানির সমস্যা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির অজুহাতে এসব এলাকায় ফিলিস্তিনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।

এছাড়া, হেব্রন শহরের ইব্রাহিম মসজিদ ও তার আশেপাশের ধর্মীয় স্থানগুলোর পরিকল্পনা ও নির্মাণ ক্ষমতা ফিলিস্তিনি পৌরসভার হাত থেকে ইসরায়েলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি ১৯৯৭ সালের হেব্রন প্রোটোকলের সরাসরি লঙ্ঘন।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ফাতাহ আন্দোলন পৃথক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপগুলো ‘সংযুক্তিকরণ ও বাস্তুচ্যুতির পরিকল্পনার বাস্তবিক বাস্তবায়ন’ এবং এগুলো স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে ‘যুদ্ধাপরাধের ঘোষণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, ‘দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর কোনো সার্বভৌমত্ব নেই এবং সেখানে প্রযোজ্য জর্ডানি আইন বাতিল বা সংশোধন করার কোনো অধিকার তাদের নেই।’

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তিনি ইসরায়েলকে এই সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করতে চাপ প্রয়োগ করেন। ফাতাহ আন্দোলন জানিয়েছে, জমি ক্রয়ের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং ভূমি রেজিস্ট্রি খোলার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি উপস্থিতি মুছে ফেলার একটি নতুন পর্যায় শুরু হয়েছে।

পশ্চিম তীরে অনুমতি না থাকার অজুহাতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস করে আসছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরায়েলি বাধার কারণে সেখানে নির্মাণের অনুমতি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কোলনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ৫৩৮টি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, যার ফলে প্রায় ১,৪০০টি বাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি বিগত বছরগুলোর তুলনায় নজিরবিহীন বৃদ্ধি।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.