আশ্রয় আবেদনে কড়াকড়ি, ইইউ পার্লামেন্টে নতুন নিয়ম পাস
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ’ ধারণাটি অনুমোদন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যে এবং অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অনুষ্ঠিত এক প্লেনারি সেশনে গত মঙ্গলবার আইনপ্রণেতারা নতুন এই নিয়ম অনুমোদন করেন। এতে পক্ষে ভোট পড়ে ৩৯৬টি, বিপক্ষে ২২৬টি এবং ভোটদানে বিরত ছিলেন ৩০ জন সদস্য। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী যদি অন্য কোনো দেশে সুরক্ষা চাইতে পারতেন, তবে ইইউভুক্ত দেশগুলো তার আশ্রয় আবেদন অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করতে পারবে। এ ছাড়া তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে আশ্রয় আবেদন মোকাবিলার চুক্তি করার কাঠামোও এই নিয়মে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনের আওতায় একটি তৃতীয় দেশকে তখনই ‘নিরাপদ’ হিসেবে গণ্য করা হবে, যদি আশ্রয়প্রার্থীর সঙ্গে ওই দেশের পারিবারিক, সাংস্কৃতিক বা ভাষাগত কোনো সংযোগ থাকে। অথবা তারা যদি আগে ওই দেশটি হয়ে যাতায়াত করে থাকেন এবং সেখানে সুরক্ষা চাওয়ার সুযোগ তাদের থাকত। দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় বা ইইউ পর্যায়ে এসব চুক্তি সম্পন্ন করা যেতে পারে। তবে সঙ্গিহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
এই আইনটি নিরাপদ উৎসের দেশগুলোর ইইউ-ব্যাপী তালিকার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এই তালিকায় বাংলাদেশ, কলম্বিয়া, মিশর, কসোভো, ভারত, মরক্কো ও তিউনিসিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন এখন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা হবে, যদি না তারা নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির সুনির্দিষ্ট ভয় প্রমাণ করতে পারেন।
ইইউতে যোগদানের প্রার্থী দেশগুলোকেও তাদের নাগরিকদের জন্য নিরাপদ হিসেবে ধরে নেওয়া হবে, যতক্ষণ না সশস্ত্র সংঘাত বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিপরীত ইঙ্গিত দেয়। ইউরোপীয় কমিশন তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে কোনো দেশকে তালিকা থেকে বাদ দিতে পারবে। এ ছাড়া সদস্য দেশগুলো জাতীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত নিরাপদ দেশ নির্ধারণ করতে পারবে।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বামপন্থী গ্রুপের কো-চেয়ার ম্যানন অব্রি ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ’ ও ‘নিরাপদ উৎস দেশ’ সংক্রান্ত ভোটের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আজ মানবাধিকার ও আশ্রয়ের অধিকারের জন্য একটি অন্ধকার দিন হিসেবে চিহ্নিত হবে। এটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। ইইউ একটি গণনির্বাসন যন্ত্রে পরিণত হবে।’
২০২৬ সালের জুন মাসে আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই নিরাপদ তৃতীয় দেশ নির্ধারণ এবং কম স্বীকৃতির হার থাকা আবেদনকারীদের জন্য ত্বরান্বিত সীমান্ত প্রক্রিয়াসহ কিছু বিধান প্রয়োগ করা হতে পারে। তবে চুক্তিগুলো চূড়ান্তভাবে কার্যকর করতে ইইউ কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.