আপনি পড়ছেন

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নতুন করে ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি ভারত, চীন ও রাশিয়া। তবে নতুন প্রতিশ্রুতি না মিললেও পুরোনো ঋণের অর্থছাড় অব্যাহত রেখেছে প্রভাবশালী এই তিন দেশ। সব মিলিয়ে আলোচিত সময়ে দেশগুলো দুই বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ছাড় করেছে। বিপরীতে কোনো প্রকল্পের আওতায় নতুন করে প্রতিশ্রুতির খাতা শূন্যই রয়ে গেছে।

ভারত, চীন ও রাশিয়ার নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি মেলেনি, তবে অর্থছাড় অব্যাহত
ভরাত, চীন ও রাশিয়ার পতাকা

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত দেড় বছরে এই তিন দেশ মোট ২১৭ কোটি ডলার ছাড় করেছে। এর মধ্যে অর্থের অঙ্কে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাশিয়া। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সুবাদে দেশটি ১২৫ কোটি ডলার ছাড় করেছে। এরপরই রয়েছে চীনের অবস্থান; দেশটির এক্সিম ব্যাংক ছাড় করেছে সাড়ে ৬৩ কোটি ডলার। অন্যদিকে ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় এসেছে ২৯ কোটি ডলার।

এই তিন দেশ থেকে নতুন ঋণের ঘোষণা না এলেও বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং জাপানের মতো বড় উন্নয়ন সহযোগীরা তাদের সহায়তা বজায় রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়কালে এসব সংস্থা ও দেশ থেকে সব মিলিয়ে ১৯৯ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রকল্পের মান যাচাই-বাছাইয়ের কারণে নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে ঋণের গতি কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া চীনের অর্থায়নে নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগও খুব একটা দেখা যায়নি। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প নিয়েও শুরুতে কিছুটা আলোচনা-সমালোচনা ছিল। এসব ঘটনার সামগ্রিক প্রভাব পড়েছে দ্বিপক্ষীয় ঋণ সহায়তার ওপর।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, শুরু থেকেই বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিতে। তা ছাড়া বিগত সরকারের নেওয়া ঋণের প্রকল্পগুলো নিয়ে সমালোচনা থাকায় বর্তমান সরকার সতর্ক অবস্থানে ছিল। তাই চীন, ভারত বা রাশিয়ার সঙ্গে নতুন বড় কোনো প্রকল্প চুক্তিতে সরকার খুব একটা আগ্রহী ছিল না। তবে তিনি মনে করেন, নতুন সরকারের কাছে বিষয়টি ভিন্ন এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক পর্যালোচনার মাধ্যমে ঋণের গতি বাড়তে পারে।

ভারতের ঋণের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১০, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনটি এলওসিতে বাংলাদেশকে মোট ৭৩৬ কোটি ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দেশটি। অবকাঠামো, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে ৩৬টি প্রকল্প নেওয়া হলেও অর্থছাড়ের গতি আশানুরূপ ছিল না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের এক্সিম ব্যাংক ৩১ কোটি ১৪ লাখ ডলার ছাড় করেছিল। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২০৭ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই গতি আরও কিছুটা মন্থর হয়েছে।

ইআরডির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, গত দেড় বছরে বিদেশি অর্থায়নে নতুন কোনো বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়নি। ভারতের সঙ্গে নতুন কোনো লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) নিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি এবং চীনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজমান। তার মতে, সাধারণত রাজনৈতিক সরকারের আমলেই দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ বেশি দেখা যায় এবং এর সঙ্গে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.