আপনি পড়ছেন

টানা দেড় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৮ মাস আগে ছাত্র-জনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। দেশকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন— এই তিনটি প্রধান দায়িত্ব তার সরকারের ওপর ন্যস্ত ছিল। তিনি ও তার সহকর্মীরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, ‘কোথায় কতটুকু সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি, কোথায় ব্যর্থ হয়েছি— সে বিচারের ভার আপনাদের ওপর থাকলো।’

‘এখন আমার যাওয়ার পালা’—১৮ মাসের দায়িত্ব শেষে প্রধান উপদেষ্টা
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা চব্বিশের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি দিনটিকে ‘মহামুক্তির দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন, যেদিন ছাত্র-জনতা দেশকে এক দানবীয় শক্তির কবল থেকে মুক্ত করেছিল। তবে সেই সময় দেশটি ছিল গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে নিমজ্জিত। রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে গিয়েছিল এবং প্রশাসন ছিল স্থবির। ড. ইউনূস জানান, সেই ক্রান্তিলগ্নে যখন তাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়, তখন তিনি বিদেশে ছিলেন। শুরুতে রাজি না থাকলেও জাতির প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে তিনি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড. ইউনূস জানান, লুণ্ঠনকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় বা আত্মগোপনে থাকায় প্রশাসন সচল করা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। কাকে বিশ্বাস করা যাবে আর কাকে যাবে না, তা নিয়ে মহাসংকট তৈরি হয়েছিল। তবুও তার সরকার হাল ছাড়েনি। তিনি বলেন, ‘আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রেখেছি।’ ভবিষ্যতের কোনো সরকার যেন স্বৈরাচারী হতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভাষণে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোটের প্রসঙ্গও উঠে আসে। দেড় যুগ পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে তিনি উৎসবমুখর ও ঈদের আনন্দের সঙ্গে তুলনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়— এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা।’ নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষকেই তিনি অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, হার-জিত গণতন্ত্রেরই সৌন্দর্য। বিজয়ী ও বিজিত উভয় পক্ষই প্রায় অর্ধেক ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে দেশের বিশাল অংশের মানুষের আস্থা তাদের ওপর রয়েছে।

১৮ মাসের এই যাত্রায় সহযোগিতার জন্য তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সাহসী তরুণ সমাজ, শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ত্যাগ ছাড়া এই পরিবর্তন অসম্ভব ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে তার সরকারের মেয়াদের সমাপ্তি ঘটবে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘এখন আমার যাওয়ার পালা। আমি আজ আমার কাজ হতে বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.