বিএনপির মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমান: বিস্ময়, বিতর্ক ও ভূ-রাজনীতির হিসাব
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমানকে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে ঘিরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিস্ময় শুধু বিরোধী দল বা সাধারণ জনগণের মধ্যেই নয়, বরং খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে অস্বস্তি ও বিব্রতবোধ।

দলটির একাধিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, খলিলুর রহমানের মন্ত্রী হওয়া তাদের প্রত্যাশার মধ্যে ছিল না। সরকার গঠনের আগমুহূর্তে সংবাদমাধ্যমে খবর দেখে তারা অবাক হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।
বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন ইস্যুতে খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে তারা নিজেরাই কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এবং একাধিকবার তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।
দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। তাদের মতে, খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া দলের জন্য বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর সিদ্ধান্ত।
২০২৫ সালের মে মাসে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব থেকে নির্বাচনে বিজয়ী দলের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়া স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো জোর করে যাইনি। একেকজনের একেকজন সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা থাকতে পারে, সেটা পরিবর্তনও হয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ অভিযোগ তুললে পুনরায় ভোট গণনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গুণে নেন আরেকবার, গুনতে তো মুশকিল নাই।
খলিলুর রহমানের নাগরিকত্ব নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। বিএনপির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী।
তবে খলিলুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কেবল বাংলাদেশের নাগরিক এবং অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, তার সম্পদের বড় অংশ বিদেশে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাসের কারণেই নাগরিকত্ব প্রশ্ন আলোচনায় এসেছে।
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও অভিযোগ করেন, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত হয়নি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চুক্তিটির মাধ্যমে চীনকে লক্ষ্য করে কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য মন্ত্রিসভা গঠন সংবিধানসম্মতভাবে একান্ত নিজস্ব এখতিয়ার। তিনি চাইলে দলের বাইরের কাউকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
তবে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করেন, খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক পেশাদারিত্ব, যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ভারতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার অভিজ্ঞতা, এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির জটিল বাস্তবতায় দক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রয়োজন- এই সব কারণেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ২০২৫ সালে লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠকে খলিলুর রহমানের উপস্থিতি এবং পুরোনো সম্পর্ক পুনর্গঠন এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, খলিলুর রহমানকে মন্ত্রী করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ভারসাম্য বজায় রাখার হিসাব কাজ করেছে।
তবে এতে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক নীতি শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই হবে বিএনপি সরকারের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের প্রধান জানালা।
এই নিয়োগ নতুন সরকারের জন্য একদিকে সুযোগ, অন্যদিকে বড় পরীক্ষা।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, যে ব্যক্তিকে নিয়ে বিএনপি এতদিন সমালোচনা করেছে, তাকেই গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া এটি রাজনৈতিকভাবে একটি বড় ব্যতিক্রম এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.