আপনি পড়ছেন

গাজা উপত্যকায় আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ বা এনসিএজি যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে। বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর এক বৈঠকে গাজার যুদ্ধপরবর্তী শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গাজায় আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ নিয়োগ শুরু, প্রশিক্ষণ হবে মিশরে
গাজার সাম্প্রতিক ছবি

এনসিএজি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এমন যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ফিলিস্তিনি নারী এবং পুরুষদের খুঁজছে, যারা পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে সমাজের সেবা করতে আগ্রহী। কমিটির মতে, এই বাহিনীতে যোগ দেওয়া একটি ‘জাতীয় দায়িত্ব’ এবং এটি গাজার মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

বোর্ড অব পিস-এর মহাপরিচালক নিকোলাই ম্লাডেনভ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় দুই হাজার মানুষ এই অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচিত সদস্যদের মিশরে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কমিটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে এই বাহিনী গড়ে তোলা হবে এবং সদস্যদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে।

যুদ্ধপরবর্তী রূপরেখা ও প্রশাসনিক কাঠামো

ইস্তাম্বুলের বৈঠকে নিকোলাই ম্লাডেনভ গাজার বেসামরিক নেতৃত্বকে সহায়তা করার জন্য একটি নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বোর্ড অব পিস-এর অধীনে গাজার জন্য “অফিস অব দ্য হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ” গঠন করা হচ্ছে। এই অফিসটি ন্যাশনাল কমিটিকে নির্দেশনা ও সহায়তা দেবে এবং গাজা উপত্যকার বেসামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে, তা দূর করতে কাজ করবে।’

ম্লাডেনভ জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে গাজার আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে এই ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনী কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল কমিটির অধীনস্থ এই ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করবে যেন গাজার সব উপদলকে ভেঙে দেওয়া হয় এবং সমস্ত অস্ত্র একটি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’ কাতার, মিশর এবং তুরস্ককে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, গাজায় পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ এবং সব ধরনের অস্ত্র অকেজো করা ছাড়া মানুষের নতুনভাবে জীবন শুরু করার আর কোনো বিকল্প নেই।

টনি ব্লেয়ারের বক্তব্য ও সংস্কার প্রস্তাব

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বৈঠকে অংশ নিয়ে গাজার অতীত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে গাজার শাসনব্যবস্থা উগ্রবাদ, দুর্নীতি, অকার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং গাজার জনগণের সমৃদ্ধির পথের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতির মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছে।’ ব্লেয়ার গাজার জন্য একটি নতুন ভিশন তুলে ধরে বলেন, ‘এটি এমন এক মধ্যপ্রাচ্যের অংশ হিসেবে গাজার ভিশন—যেখানে মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান বা যেকোনো ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজেদের প্রচেষ্টায় এগিয়ে যেতে পারবে।’ তিনি আরও মন্তব্য করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই রূপরেখা গাজা ও পুরো অঞ্চলের জন্য ‘একমাত্র আশা’ হিসেবে টিকে আছে।

এনসিএজি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনার অধীনে গঠিত একটি অরাজনৈতিক সংস্থা। ১১ জন ফিলিস্তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে গঠিত এবং আলী শাথ-এর নেতৃত্বাধীন এই কমিটি বর্তমানে গাজার দৈনন্দিন বেসামরিক বিষয়গুলো পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। কমিটি বর্তমানে কায়রো থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হামাস জানিয়েছে, তারা বেসামরিক শাসনের দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য লজিস্টিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। তবে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রসিংগুলোর জটিলতায় কমিটির সদস্যরা এখনো গাজায় প্রবেশ করতে পারেননি।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.