আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের আগের শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করার পরপরই পাল্টা ব্যবস্থা নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের রায়ের পর কালক্ষেপণ না করে তিনি দ্রুত নতুন একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। গত শুক্রবার রাতে স্বাক্ষরিত এই আদেশের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পণ্য আমদানির ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

মধ্যরাতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ: নতুন শুল্কের আওতায় কারা, ছাড় পেল কোন দেশ?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

নতুন এই শুল্ক আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে এবং এর মেয়াদ থাকবে ১৫০ দিন। এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, দেশের বাণিজ্যঘাটতি মোকাবিলার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা রাখেন। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ে পুরোনো শুল্ক কাঠামো ভেঙে পড়লেও নতুন কৌশলে ট্রাম্প তার বাণিজ্যযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন।

তবে এই শুল্কায়নের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট পণ্য ও দেশকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলা মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা পণ্যগুলো এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে অ্যারোস্পেস পণ্য, ওষুধশিল্প, হালকা ট্রাক, যাত্রীবাহী গাড়ি এবং নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপরই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

এর আগে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু গত শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালত রায় দেন যে, ওই আইনটি প্রেসিডেন্টকে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে না। ফলে আগের শুল্ক আদায়কে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আদালতের এই রায়ের ফলে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো কিছুটা স্বস্তি পেলেও ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপে তারা পুনরায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

আদালত আগের শুল্ক বাতিল করায় আমদানিকারকদের কাছ থেকে আদায়কৃত বিশাল অংকের অর্থ নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্কলন অনুযায়ী, সরকারকে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দিতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এই অর্থকে ‘অবৈধ অর্থ ছিনতাই’ হিসেবে অভিহিত করে তা সুদে-আসলে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর মামলা চলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অবশ্য মনে করছেন, আদালতের রায়ে রাজস্ব খাতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, ‘আগের শুল্ক বাতিল হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তা লাঘব হবে।’ অন্যদিকে কানাডীয় চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডাস লেং সতর্ক করে বলেছেন, ‘কানাডার উচিত আরও কঠোর বাণিজ্যিক চাপের জন্য প্রস্তুত থাকা।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনও পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার নজিরবিহীন ব্যবহার করছেন। তিনি বরাবরই শুল্ককে আলোচনার হাতিয়ার ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তার আগের শুল্ক ঘোষণার সময় দিনটিকে আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ (অর্থনৈতিক) বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির জন্য ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক শুল্ক নীতি বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.