প্রতিবেদন: সুপ্রিম কোর্টে শুল্ক আটকালেও ট্রাম্পের হাতে রয়েছে বিকল্প পথ
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক নীতি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আদালতের এই রায়ের পরও একই ধরনের বাণিজ্য শুল্ক পুনরায় চালুর জন্য একাধিক বিকল্প আইনি ব্যবস্থা বা পথ খোলা রয়েছে।

শুক্রবার ৬-৩ ভোটে দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ট্রাম্প তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, বরং কংগ্রেসের। রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, ‘বৈদেশিক নীতির ওপর বাণিজ্যের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সংবিধান প্রণেতারা শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসকেই দিয়েছেন।’
আদালতের এই রায়ে উদারপন্থী ও রক্ষণশীল উভয় বিচারপতির সমর্থন থাকলেও তীব্র ডানপন্থী বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিতো এবং ব্রেট কাভানিয়া ভিন্নমত পোষণ করেন। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প ‘মুক্তি দিবস’-এ জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্ব বাণিজ্যে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শোষণ করছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আইইইপিএ আইনকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আদালতের রায়ে আইইইপিএ ব্যবহার বন্ধ হলেও ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের পাস করা অন্যান্য আইন বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনের ২৩২ ধারা। এই ধারায় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত সাপেক্ষে আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে। ২০১৮ সালে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শুল্ক আরোপের জন্য এই বিধান ব্যবহার করা হয়েছিল যা আদালতেও টিকে যায়। বর্তমান বাণিজ্য মন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এই তালিকায় আরও শত শত পণ্য যুক্ত করেছেন।
আরেকটি পথ হলো ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা। এটি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিকে অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের তদন্ত এবং প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয়। এই আইনের আওতায় চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকে আছে। গত সেপ্টেম্বরে একটি ফেডারেল আপিল আদালত হাজার হাজার কোম্পানির করা অভিযোগ খারিজ করে এই শুল্ক বহাল রাখে।
একই আইনের ১২২ ধারা বা ‘ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট’ বিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা বা বাণিজ্যে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ মোকাবিলার জন্য ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করতে পারেন। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতে এই বিধানের পরীক্ষা খুব একটা হয়নি। এ ছাড়া ১৯৩০ সালের স্মুট-হলি ট্যারিফ আইন এখনো কার্যকর রয়েছে, যা নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর বিদেশি ভর্তুকি বা ডাম্পিং মোকাবিলার সুযোগ দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহার সীমিত করলেও কংগ্রেস অনুমোদিত অন্যান্য পথ বন্ধ করেনি। তবে শুল্ক আরোপের আইনি পথ থাকলেও জরিপ অনুযায়ী মার্কিন জনগণের কাছে এই শুল্ক নীতি জনপ্রিয় নয়। সাধারণ মানুষ মনে করে, এর ফলে পণ্যের দাম বাড়বে। ট্রাম্পের দাবি বিদেশি দেশগুলো শুল্ক দেয়, ভোক্তারা নয়—এমন যুক্তি সত্ত্বেও জনমত ভিন্ন। ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের জেদ আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.