খামেনির পর যেভাবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেবে ইরান
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তেহরানে তার বাসভবনে পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনৈতিক পালাবদলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসারে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার মধ্যে এই ঘটনা ইরানকে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।

শনিবার ভোরে তেহরানের কেন্দ্রে আয়াতুল্লাহ খামেনির সুরক্ষিত বাসভবনে এই হামলা চালানো হয়। এতে খামেনি ছাড়াও তার কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ এবং এক নাতি-নাতনি নিহত হন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের একাধিক শহরে সমন্বিত হামলা চালায়, যেখানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটল।
খামেনির মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি তিন সদস্যের পরিষদ সাময়িকভাবে তার দপ্তরের দায়িত্ব পালন করবে। খামেনির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই পরিষদে থাকবেন দেশের রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের (Guardian Council) একজন আলেম। এই পরিষদই নতুন নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সাংবিধানিক দায়িত্ব বিশেষজ্ঞ পরিষদের (Assembly of Experts) ওপর ন্যস্ত। আয়াতুল্লাহদের নিয়ে গঠিত এই পরিষদে ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ ইসলামি আইনবিদ ও আলেম রয়েছেন, যারা জনগণের সরাসরি ভোটে আট বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। কোনো সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু, পদত্যাগ বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে নতুন নেতা নিয়োগ দেওয়াই এই পরিষদের প্রধান কাজ। ইরানের সংবিধানের ১০৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘নেতার মনোনয়ন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর করবে।’ নেতা নির্বাচন ছাড়াও তার কার্যক্রম তদারকি এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে পদচ্যুত করার ক্ষমতাও এই পরিষদের রয়েছে। প্রবীণ আলেম মোহাম্মদ আলি মোভাহেদি কেরমানি বর্তমানে এই পরিষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রথমে অভিভাবক পরিষদ দ্বারা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদিত হতে হয়। এরপর বিশেষজ্ঞ পরিষদ প্রার্থীদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেয়। ১৯৮৯ সালের ৩ জুন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর এই পরিষদই আলি খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছিল।
সাংবিধানিক মানদণ্ড অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতাকে একজন যোগ্য ইসলামি আইনবিদ, ন্যায়পরায়ণ, ধর্মভীরু, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে জ্ঞানী এবং বিচক্ষণ নেতৃত্বের অধিকারী হতে হয়। যদি কোনো প্রার্থী সব যোগ্যতা পূরণ করতে না পারেন, তবে শক্তিশালী নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে পরিষদ বেছে নিতে পারে। প্রার্থীদের যোগ্যতা—যেমন ধর্মীয় জ্ঞান, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা—মূল্যায়নের জন্য পরিষদ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। আলোচনার পর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রার্থীকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮৯ সালের মতো এবার আয়াতুল্লাহ খামেনির রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে তুলনীয় কোনো একক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব নেই। বিদেশি গণমাধ্যমে খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতার নাতি হাসান খোমেনির নাম আলোচনায় এলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, তারা কেউই শক্তিশালী প্রার্থী নন। উল্লেখ্য, খামেনির বাসভবনে হামলায় মোজতাবার স্ত্রী নিহত হলেও তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
গত মে মাসে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম রাইসিকে অনেকেই খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করতেন। তার মৃত্যুতে একজন শক্তিশালী প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন। ফলে বর্তমানে কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগামী প্রার্থী না থাকায় ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.