আপনি পড়ছেন

‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া তীব্র আন্দোলনের মুখে কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের ছয় মাস পর নেপালে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (ভোটগ্রহণের দিন) সকাল থেকেই নেপালের প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ২৭৫ জন সদস্য নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোট দিচ্ছেন প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার। এবারের নির্বাচনকে হিমালয়ের দেশটির প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং তরুণ নেতৃত্বের উত্থানের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নেপালে ‘জেন-জি’ বিপ্লবের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন
প্রতীকী ছবি

২০২২ সালের নভেম্বরে নির্বাচিত সংসদটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে তরুণদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ভেঙে দেওয়া হয়। দুর্নীতি, অসমতা এবং রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। সহিংসতায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে পার্লামেন্ট চত্বরে পুলিশের গুলিতে ১৯ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারান।

বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরে যান। ওলি পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি যদি পাঁচ মিনিট দেরি করতাম, তবে আমাকে মেরে ফেলা হতো।’ পরিস্থিতির সামাল দিতে ডিসকর্ডে ভার্চুয়াল ভোটিংয়ের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনই ছয় মাসের মধ্যে এই নির্বাচনের আয়োজন করেছে।

নেপালের প্রতিনিধি পরিষদের ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টি আসনে ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতিতে এবং বাকি ১১০টি আসনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকার গঠনের জন্য কোনো দলকে অন্তত ১৩৮টি আসনে জয়লাভ করতে হবে। দুর্গম এলাকাগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টার, ঘোড়া এবং ইয়াকের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৯০ লাখেরও বেশি নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন, যা ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রবীণ বনাম নবীন: ওলি বনাম বালেন

এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে নেপালের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তি এবং তরুণদের সমর্থিত নতুন দলগুলোর মধ্যে। কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র এবং র‌্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ (বালেন) প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) হয়ে কেপি শর্মা ওলির নিজ আসন ‘ঝাপা-৫’ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বালেন্দ্র শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

আরএসপি’র প্রধান রবি লামিছানের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকায় দলটি বালেন্দ্রকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে আরএসপি এবং বালেন্দ্র শাহের ব্যাপক জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেশব প্যাকুরেল নামের এক ভোটার আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, ‘আমি বারবার পুরনো দলগুলোকে ভোট দিয়েছি। তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি, তাই এবার নতুন দলকে সুযোগ দিয়ে দেখি।’

রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া

তরুণদের চাপের মুখে নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নেপালি কংগ্রেসের ৭৯ বছর বয়সী নেতা শের বাহাদুর দেউবা দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে দলের নতুন প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছে। গগন থাপা ভারতীয় সীমান্তবর্তী সারলাহি-৪ আসন থেকে লড়ছেন। তবে কেপি শর্মা ওলি এবং মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দাহালের মতো প্রবীণ নেতারা এখনো রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখছেন।

ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিজয় কান্ত কর্ণ বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত অনন্য নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত দলগুলো ধীরে ধীরে দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যাবে।’

ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান নেপালের পররাষ্ট্রনীতিতেও পরিবর্তন আনতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও চীনের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে চলা নেপাল এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিস্তৃত পরিসরে যুক্ত হতে চাইছে। অধ্যাপক বিজয় কান্ত কর্ণ মনে করেন, শুধুমাত্র বড় প্রতিবেশীদের ওপর নির্ভর না করে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করা নেপালের জন্য জরুরি।

প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছেন। অতীতের নির্বাচনগুলোতে দারিদ্র্য প্রধান ইস্যু হলেও, এবার বেকারত্ব, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.