মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের আঁচ: ভারতে জ্বালানি সংকটে চাপে ব্যবসায়ীরা
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শিল্পগোষ্ঠীগুলো জ্বালানি সংকটের বিষয়ে সতর্ক করলেও সরকারিভাবে পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা জানানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এই সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং নতুন করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারত তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করে থাকে, যার অর্থমূল্য ২০২৪ সালে প্রায় ১৮ হাজার কোটি (১৮০ বিলিয়ন) ডলার।
ভারতের বিভিন্ন অংশে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের কথা জানিয়েছেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অগ্রাধিকার খাতগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন ও ধারাবাহিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নয়াদিল্লি।
দক্ষিণ ভারতের মাইসুরু জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নারায়ণ গৌড়া আনাদোলুকে জানান, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সংকটের কারণে বেশ কিছু হোটেল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘সংকটের খবর পাওয়া গেছে এবং সরকারকে অবশ্যই নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি আরও জানান, কর্ণাটক রাজ্যে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের জীবিকার জন্য এই আতিথেয়তা খাতের ওপর নির্ভরশীল।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য খাতেও। গুজরাটের সুরাটে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ অমসৃণ হীরা কাটিং ও পলিশ করে রপ্তানি করা হয়। শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইউক্রেন ও গাজার যুদ্ধ এবং বর্তমানে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এই খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। গুজরাট ডায়মন্ড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি রমেশ জিলারিয়া আনাদোলুকে বলেন, ‘আমাদের প্রধান বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং দুবাই। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি খুবই খারাপ হবে।’
এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরাও গ্যাস সিলিন্ডারের সংকটে ভুগছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে সরবরাহ নিশ্চিত করার অনুরোধ করছি, যাতে অন্যান্য শ্রমিকরা তাদের নিজ শহরে ফিরে না যায়।’
এদিকে, আতঙ্কিত হয়ে মানুষ অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা শুরু করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পগুলোর বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তারা এই ভিড়ের জন্য ভুল তথ্য ছড়ানোকে দায়ী করেছেন। অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে সমন্বিতভাবে যে ভুল তথ্যের প্রচার চালানো হচ্ছে, তাতে বিভ্রান্ত না হতে বৃহস্পতিবার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত সরকার। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা প্রভাবিত হলেও এখন পর্যন্ত গ্যাস শূন্য হয়ে যাওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ান মেডিকেল ডিভাইস ইন্ডাস্ট্রি চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও বিস্তৃত অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, এসব ঘটনা উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সামগ্রী প্রস্তুতকারকদের কার্যকরী মূলধনের ওপর চাপ ফেলছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইসরায়েল এবং জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরান কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ যার মধ্য দিয়ে এশিয়ার দেশগুলোতে পাঠানো জ্বালানির বড় অংশ পরিবাহিত হয়। মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানি কূটনৈতিক মিশন জানিয়েছে, আব্বাস আরাঘচির দেওয়া এক বিবৃতি অনুযায়ী, চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক এবং পাকিস্তানসহ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.