আপনি পড়ছেন

জার্মানিতে ইসরায়েলকে অস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বামপন্থী দলের আইনপ্রণেতা মির্জে এডিস। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে জার্মানির প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ বার্লিনকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এডিস: জার্মানিতে ইসরায়েলের অস্ত্র উৎপাদন গ্রহণযোগ্য নয়
মির্জে এডিস

অ্যানাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মির্জে এডিস জানান, ইসরায়েলের একটি প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে ফক্সওয়াগনের চুক্তির আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করছে তার দল। এই চুক্তির আওতায় ফক্সওয়াগনের ওসনাব্রুক কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ তৈরির কথা রয়েছে। জার্মান সরকার এই প্রকল্পে সমর্থন দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই আইনপ্রণেতা বলেন, ‘নেতানিয়াহু এবং তার ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মূলত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ইসরায়েলি সরকারকে এখানে অস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার আগে জার্মান সরকারকে বারবার ভাবতে হবে।’

এডিস জোর দিয়ে বলেন, ‘জার্মানিতে ইসরায়েল সরকারের প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলো এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলে তা বার্লিনকে নেতানিয়াহু সরকারের যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সহযোগী করে তুলতে পারে।’

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি শুধু গাজার দিকে তাকাই, নেতানিয়াহুর ফ্যাসিবাদী সরকার সেখানে গণহত্যা চালিয়েছে। এর ফলে হত্যা, ধর্ষণ এবং কিছু ক্ষেত্রে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলে এসব অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে জার্মান সরকারের হাতও রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানির শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সওয়াগন ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমের সঙ্গে একটি অংশীদারত্বের বিষয়ে আলোচনা করছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ওসনাব্রুক কারখানায় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক যন্ত্র, পরিবহন যান এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী যন্ত্রাংশ তৈরি হতে পারে। আগামী বছর গাড়ির উৎপাদন শেষ হওয়ার পর এই কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ফক্সওয়াগনের কারখানা বন্ধের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই বামপন্থী আইনপ্রণেতা। তিনি উল্লেখ করেন, কোম্পানিটি আর্থিক সংকটে থাকলেও দেউলিয়া হয়ে যায়নি এবং তারা কানাডার মতো অন্যান্য দেশে আরও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। জার্মানির গাড়ি শিল্পকে সামরিক উৎপাদনের দিকে ধাবিত করা বর্তমান সংকটের কোনো টেকসই সমাধান নয় বলে তিনি সতর্ক করেন। এডিস বলেন, ‘অন্য দেশে যুদ্ধকে সমর্থন করে মানুষের জীবনের বিনিময়ে আমরা চাকরি বাঁচানোর কথা ভাবতে পারি না।’

ফক্সওয়াগনের ওসনাব্রুক কারখানায় গাড়ি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ উৎপাদনের বিষয়ে ইসরায়েলি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার কথা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফক্সওয়াগনের একজন মুখপাত্র অ্যানাদোলুকে জানান, কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমানে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা উপসংহার নেই। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ফক্সওয়াগনের অস্ত্র উৎপাদন করার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং ওসনাব্রুক কারখানার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তারা কোনো জল্পনা-কল্পনায় জড়াতে চান না।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং গাড়ি শিল্পের রূপান্তরের মধ্যে চাকরি বাঁচানোর উপায় হিসেবে এই সম্ভাব্য অংশীদারত্বকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করছে জার্মান সরকার। তবে এই বিষয়ে সরকারের মুখপাত্র স্টিফেন মেয়ার জানান, বার্লিন প্রতিবেদনগুলো সম্পর্কে অবগত থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে মন্তব্য করবে না। জার্মানিতে কর্মসংস্থান রক্ষা করে এমন উদ্যোগকে সরকার স্বাগত জানায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের জোট সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এডিস। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক কর্মসূচি বাতিল এবং সরকারি বিনিয়োগ বিলম্বিত করে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে ও অস্ত্র শিল্পকে শক্তিশালী করছে। এডিস বলেন, ‘মূলত এই পুরো প্রচারণার উদ্দেশ্য হলো ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং তার সরকারের অস্ত্র শিল্পের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, যা শুধু অস্ত্র কোম্পানিগুলোকেই লাভবান করতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিনই খবর আসছে যে রাশিয়া জার্মানিতে হামলা চালাতে পারে। মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে এবং তাদের চাপিয়ে দেওয়া অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে গ্রহণযোগ্য করতে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.