দুই দশক পর ইরানে মার্কিন স্থলমাইনের ব্যবহার!
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের একটি আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে থাকা মার্কিন স্থলমাইন বেসামরিক মানুষের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এসব ছবির ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, দুই দশকের বেশি সময় পর মার্কিন বাহিনী আবারও এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, এসব মাইন সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব মাইনের বিস্ফোরণে অন্তত একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষকে ক্যানের মতো দেখতে এসব বস্তু থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন চারজন অস্ত্র বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বিএলইউ-৯১/বি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন। সাধারণত ‘গেটর মাইন ডিসপার্সাল সিস্টেম’ ব্যবহার করে বিমান থেকে এসব মাইন ফেলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সংঘাতে জড়িত দেশগুলোর মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই এই ব্যবস্থা রয়েছে।
খবর অনুযায়ী, ছবিগুলো দক্ষিণ ইরানের শিরাজ শহরের কাছাকাছি একটি এলাকা থেকে তোলা হয়েছে, যা ইরানের বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা থেকে প্রায় ৩ মাইল বা ৪.৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওইসব এলাকায় প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার মোতায়েন থাকে। সেগুলোর চলাচল বা প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করতেই সম্ভবত এসব মাইন ব্যবহার করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান কাস্টনার জানান, এসব স্থলমাইন সাঁজোয়া যানকে লক্ষ্য করে তৈরি হলেও এগুলো বেসামরিক মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
বৃহস্পতিবার টেলিগ্রামে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, ক্যানের মতো দেখতে বিস্ফোরক ডিভাইসের আঘাতে অন্তত একজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া অস্বাভাবিক, ক্ষতিগ্রস্ত বা বিকৃত মনে হয় এমন যেকোনো ধাতব পাত্র এড়িয়ে চলতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে তারা।
অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মার্কিন সেনাবাহিনীর মাইন ও কাউন্টারমাইন অপারেশন বিষয়ক একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব অস্ত্র ফেলার জন্য ব্যবহৃত এরিয়াল ডিসপেন্সার থেকে সাধারণত একসঙ্গে ডজন খানেক মাইন ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায়ই অ্যান্টি-ট্যাংক এবং অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইনের মিশ্রণ থাকে। তবে পাওয়া ছবিগুলোতে অ্যান্টি-ট্যাংক মাইনের পাশাপাশি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ছড়িয়ে দেওয়া অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন ব্যবহারের সর্বশেষ নিশ্চিত ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে। পেন্টাগনের রেকর্ড অনুযায়ী, আমেরিকান অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ব্যবহারের সবচেয়ে সাম্প্রতিক জানা ঘটনাটি ঘটে ২০০২ সালে আফগানিস্তানে। সে সময় স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্যরা হেলিকপ্টারের জন্য অপেক্ষার সময় এগুলো ব্যবহার করেছিলেন।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী অ্যান্টি-পার্সোনেল স্থলমাইন নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে। কারণ সংঘাত শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও এসব মাইন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিপদ তৈরি করে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাইডেন আমলের একটি নীতি বাতিল করেন, যেখানে এ ধরনের মাইনের ব্যবহার কেবল কোরীয় উপদ্বীপে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশনায় বেসামরিক ক্ষতি কমানোর ওপর জোর দিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব মাইন ব্যবহারের বিষয়টি মূল্যায়নের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়াশিংটন ডিরেক্টর সারাহ ইয়েগার বলেন, ‘গেটর মাইন স্ক্যাটারিং সিস্টেম ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কারণে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার বিষয়টি যদি নিশ্চিত হয়, তবে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে কেন এসব অস্ত্র নিষিদ্ধ করার দশকের পর দশক ধরে চলা কাজগুলো বাতিল করা উচিত নয়। কারণ এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.