আপনি পড়ছেন

উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই হুমকির ফলে ওই অঞ্চলে দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ইরানের নিশানায় মার্কিন বিগ টেক: হুমকিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রযুক্তি খাত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের পতাকা

বিবৃতিতে সিসকো, ইন্টেল, ওরাকল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগল, মেটা, আইবিএম, এনভিডিয়া, টেসলা, বোয়িং এবং আবুধাবিভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান জি৪২-সহ ১৮টি কোম্পানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, তারা নিজেদের তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সহায়তা করছে। গত বুধবার তেহরানের সময় রাত ৮টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। এখন এই ধরনের হুমকি চলমান সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কর্মসূচির ফেলো স্যাম উইন্টার-লেভি আনাদোলুকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করতে তাদের খরচ বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইরান। তিনি আরও জানান, তারা প্রযুক্তি শিল্পে আঘাত হানতে চাইছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতার প্রতীক।

বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। তারা সেখানে ডেটা সেন্টার, ক্লাউড পরিষেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো তৈরি করছে। জ্বালানির সহজলভ্যতা এবং তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচের কারণে এই অঞ্চলটি বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির একটি নতুন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এই হুমকির কারণে এখন ট্রিলিয়ন ডলারের পরিকল্পিত বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সিসকো, ওপেনএআই, ওরাকল এবং এনভিডিয়ার মতো কোম্পানিগুলো স্টারগেট ইউএই ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই ধরনের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হতে যাচ্ছে। প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১০ বর্গমাইল এলাকার ওপর নির্মিত এই বিশাল কমপ্লেক্সটি এ বছরই চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ওরাকল এরই মধ্যে আবুধাবি, দুবাই, জেদ্দা এবং রিয়াদে তাদের ক্লাউড রিজিওন পরিচালনা করছে।

২০২৪ সালে গুগল সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে তাদের ক্লাউড কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং এআই সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর আগে ২০২৩ সালে তারা সৌদি আরব ও কাতারে ক্লাউড রিজিওন চালু করেছিল। একইভাবে মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসও (এডব্লিউএস) এই অঞ্চলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করেছে।

এর আগে যুদ্ধের কারণে এডব্লিউএস-এর কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২ মার্চ কোম্পানিটি জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের দুটি এবং বাহরাইনে একটি ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলার কারণে অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। সামরিক পদক্ষেপে বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এটিই প্রথম জানা ঘটনা। এছাড়া গত বুধবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাহরাইনে অ্যামাজনের ক্লাউড কার্যক্রমে আরেকটি হামলা হয়েছে।

স্বাধীন প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ লুকাস ওলেজনিক আনাদোলুকে জানান, কিছুদিন আগেও বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামো এবং ডেটা সেন্টারে সরাসরি হামলার বিষয়টিকে বড় কোনো ঝুঁকি হিসেবে দেখা হতো না। তিনি জানান, এখন এগুলো আর কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং বীমা কোম্পানি, করপোরেট বোর্ড এবং পরিকল্পনাকারীদের এই ধরনের হুমকিকে বাস্তব সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

ডেটা সেন্টারগুলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, কুলিং সিস্টেম এবং ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এগুলো খুব সহজে হামলার শিকার হতে পারে বলে মনে করেন উইন্টার-লেভি। তিনি বলেন, ‘ইরানিরা যদি তাদের কুলিং সিস্টেম বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে, তবে তারা পুরো একটি স্থাপনা অকেজো করে দিতে সক্ষম, যার ফলে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটতে পারে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এমনকি সামান্য সময়ের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাখ লাখ ডলারের ক্ষতি হতে পারে।’

এই ধরনের ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব দুটি স্তরে পড়তে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকিং, লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল সেবার মতো খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দীর্ঘমেয়াদে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপদ ডেটা হাব হিসেবে যে পরিচিতি রয়েছে, তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

উইন্টার-লেভি বলেন, ‘উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো বিশ্বের ডেটা সংরক্ষণের জন্য নিজেদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল স্থান হিসেবে তুলে ধরতে বছরের পর বছর ধরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এখন সেই দাবি করাটা অনেক কঠিন হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক বিনিয়োগকারী এবং বীমা প্রতিষ্ঠান এখন নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকিগুলো একটি বিস্তৃত কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। উইন্টার-লেভি জানান, ইরান বোঝাতে চাইছে যে তারা মার্কিন কোম্পানিগুলোর বেসামরিক এবং সামরিক কাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.