আপনি পড়ছেন

নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে তুরস্কের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য কৌশলগত ভুল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ফন ডার লিয়েন সম্প্রতি তুরস্ককে রাশিয়া ও চীনের কাতারে ফেলে যে মন্তব্য করেছেন, তার ব্যাপক সমালোচনা করে তারা এই সতর্কবার্তা দেন।

তুরস্ককে দূরে সরিয়ে কৌশলগত ভুল করছে ইইউ, সতর্কবার্তা বিশ্লেষকদের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা

জার্মানির হামবুর্গে জার্মান সংবাদপত্র ‘ডাই জাইট’-এর ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফন ডার লিয়েন ইইউ সম্প্রসারণের পক্ষে তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে সেখানে তিনি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে তুরস্ককেও একই তালিকাভুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া, তুরস্ক বা চীনের দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই ইউরোপীয় মহাদেশকে সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে সফল হতে হবে।’

এই মন্তব্যের পর ইউরোপীয় কমিশন একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দেয়। তারা জানায়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই তুরস্ক নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বোঝাতেই দেশটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সরাসরি কোনো তুলনা করতে নয়। ইইউ কমিশনের একজন মুখপাত্র ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান মিডল করিডোর, অভিবাসন ব্যবস্থাপনাসহ সংযোগ উদ্যোগের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে তুরস্কের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি আঙ্কারাকে ন্যাটো মিত্র এবং ইইউ প্রার্থী দেশ হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে উল্লেখ করেন।

তবে ফন ডার লিয়েনের মন্তব্যের সুর ও এর অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চ্যাথাম হাউসের অ্যাসোসিয়েট ফেলো টিমোথি অ্যাশ আনাদোলুকে জানান, তুরস্ক এখনও একটি বিশ্বস্ত ন্যাটো মিত্র এবং ইইউর সদস্যপদ প্রার্থী। তিনি তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনী ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে বলেন, ‘তুরস্ক এখনও ইউরোপের একটি বিশ্বস্ত মিত্র এবং তুর্কি সেনারা ইউরোপের সীমানা রক্ষায় সহায়তা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে যেখানে ইউরোপ রাশিয়ার দিক থেকে অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দুর্বল ও অনিশ্চিত, সেখানে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে তুরস্ক নিশ্চিতভাবেই ইউরোপের প্রতিরক্ষার ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে।’

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একটি কার্যকর ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। সদস্য দেশগুলোর সামরিক কাঠামোর খণ্ডিত অবস্থা এবং ভিন্ন ভিন্ন কৌশলগত অগ্রাধিকারের কারণে এই জোট স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইইউ এখনও গোয়েন্দা তথ্য ও কৌশলগত পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতার জন্য মূলত ন্যাটোর, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ইউরোপীয় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কের সবচেয়ে বড় সেনাবাহিনী এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে উল্লেখ করে টিমোথি অ্যাশ বলেন, ‘তুরস্ক যখন ইউরোপের প্রতিরক্ষায় অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে পারে, তখন ফন ডার লিয়েনের এমন অপমানজনক মন্তব্য করাটা পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়।’

ইস্তাম্বুলভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইস্তানপোল-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক সমন্বয়ক রিকার্ডো গ্যাসকো আনাদোলুকে জানান, ব্রাসেলস নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে আঙ্কারার গুরুত্ব ক্রমশ স্বীকার করলেও ইইউর একাংশ এখনও তুরস্ককে অংশীদারের চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের বর্তমান প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক কৌশলের সীমাবদ্ধতার কারণে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। তুরস্কের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর এবং কৌশলগতভাবে অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে।’

ইইউর ভেতরেও এই বিষয়ে বিভক্তি স্পষ্ট। জোটটির সম্প্রসারণ বিষয়ক কমিশনার মার্তা কোস সম্প্রতি ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের জানান, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে ইইউর তুরস্ককে প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘তারা (তুরস্ক) ইইউর পঞ্চম বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্য রুটের জন্যও দেশটি অপরিহার্য। পাশাপাশি কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেনের যেকোনো শান্তি চুক্তির জন্য তুরস্ককে প্রয়োজন হবে।’

গ্যাসকো জানান, ফন ডার লিয়েন এবং মার্তা কোসের ভিন্ন ভিন্ন বার্তা ইইউর অভ্যন্তরীণ দ্বৈত নীতিকে তুলে ধরে। একটি পক্ষ দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার কারণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে মনে করে যে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করা সম্ভব নয়। গ্যাসকো বলেন, ‘এ কারণেই ইইউর নীতি প্রায়ই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়। কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা তাদের সম্পৃক্ততার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দ্বিধা তাদের পিছিয়ে রাখছে।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.