আপনি পড়ছেন

তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বায়কার এ বছর থেকেই তাদের চালকবিহীন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ‘বায়রাকতার কিজিলেলমা’-এর প্রথম বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক এক সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে কোম্পানিটি তাদের প্রথম রপ্তানি চুক্তিও সম্পন্ন করে তুরস্কের সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে ভর করে তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতে অভাবনীয় উত্থান
তুরস্কের পতাকা

শনিবার ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘সাহা ২০২৬ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনী’-তে আনাদোলুর টেকনোলজি ডেস্কের সঙ্গে আলাপকালে বায়কারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হালুক বায়রাকতার এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে কিজিলেলমা যুদ্ধবিমানটির নিবিড় উড্ডয়ন পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এ বছরের মধ্যেই প্রথম বাণিজ্যিক সরবরাহ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।’

সাহা ইস্তাম্বুলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও রয়েছেন হালুক বায়রাকতার। তিনি জানান, গত দুই দশকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পে যে রূপান্তর ঘটেছে, এই উন্নয়ন তারই প্রতিফলন। তুরস্কের ‘ন্যাশনাল টেকনোলজি ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতে দেশীয় উৎপাদন জোরদার করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে মাত্র ২৭ জন সদস্য নিয়ে সাহা ইস্তাম্বুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘২০০২ সালে তুরস্কে প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ২০টির মতো। আর আজ ২০২৬ সালে এসে প্রতিরক্ষা খাতে সেবা দেওয়া কোম্পানির সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।’

হালুক বায়রাকতার জানান, গত বছর তুরস্কের প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানির পরিমাণ ২৫ কোটি ডলার থেকে বেড়ে এক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। আর এ বছর তাদের লক্ষ্য এক হাজার ৩০০ কোটি ডলার। তিনি আরও জানান, সাহা ইস্তাম্বুল বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে বড় শিল্প ক্লাস্টারে পরিণত হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং এর সঙ্গে ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত রয়েছে।

সাহা প্রদর্শনীতে ৮০০ কোটি ডলারের চুক্তি

এ বছরের সাহা প্রদর্শনীতে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে বলে জানান হালুক বায়রাকতার। তিনি বলেন, ‘অনেকেই এখন বলেন যে, চীন থেকে পশ্চিম দিকে তাকালে সবচেয়ে গভীর এবং শক্তিশালী ইকোসিস্টেম এখন তুরস্কেই রয়েছে।’

তার দেওয়া তথ্যমতে, এই প্রদর্শনীতে ১৯৬টির বেশি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়েছে এবং মোট ৮০০ কোটি ডলারের রপ্তানি চুক্তি সই হয়েছে। তিনি জানান, এর মধ্যে শুধু তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান আরকা ডিফেন্স ৪৩০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। অন্যদিকে বায়কার তাদের কিজিলেলমা যুদ্ধবিমানের জন্য প্রথম রপ্তানি চুক্তি সই করেছে।

এই অর্জনকে ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বায়কার প্রধান জোর দিয়ে বলেন, সাহা প্রদর্শনী ধারণাগত প্রোটোটাইপের চেয়ে মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষিত ও কার্যকর সিস্টেমগুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়। তিনি বলেন, ‘বায়কারে আপনারা যেসব প্ল্যাটফর্ম দেখছেন, তার সবগুলোই উড্ডয়ন সক্ষম এবং এগুলো সফলভাবে উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।’

দেশীয় ইঞ্জিনের উৎপাদন বৃদ্ধি

আগের বছরগুলোতে তুরস্কের ওপর আরোপিত নানা নিষেধাজ্ঞা দেশের নিজস্ব প্রযুক্তির উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেছে বলে জানান হালুক বায়রাকতার। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকবার এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। আজারবাইজানের ওয়ান হোমল্যান্ড অপারেশনের সময় ক্যামেরা সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল। তখন আসেলসানের দেশীয় প্রযুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লেগেছিল।’

ইঞ্জিন উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। বায়রাকতার টিবি৩-এর জন্য টার্বো-ডিজেল ইঞ্জিন তৈরি করছে তুসাস ইঞ্জিন ইন্ডাস্ট্রিজ (টিইআই)। এছাড়া আগে আমদানিনির্ভর থাকলেও বায়রাকতার টিবি২-এর জন্য বায়কার এখন নিজেদের দেশেই ইঞ্জিন উৎপাদন করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাপক মাত্রায় উৎপাদনের জন্য লাইন স্থাপন করছি এবং প্রতি বছর হাজার হাজার ইঞ্জিন তৈরি করব।’

পাশাপাশি টিইআই এবং বায়কারের নিজস্ব প্রকল্পের মাধ্যমে টার্বোফ্যান ইঞ্জিন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

কিজিলেলমা ও ভবিষ্যৎ রপ্তানি

চালকবিহীন আকাশযান প্রযুক্তির ২৫ বছরের বিবর্তনের সর্বশেষ পর্যায় হিসেবে কিজিলেলমাকে বর্ণনা করেন বায়রাকতার। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইঞ্জিন ছাড়া এই যুদ্ধবিমানের অন্য সব সিস্টেম দেশীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছে।’

২০২২ সালের ডিসেম্বরে এই যুদ্ধবিমান প্রথম আকাশে ওড়ে এবং এরপর থেকে উড্ডয়ন পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘আসেলসানের তৈরি এইসা রাডার এবং তুবিতাক সেজ-এর তৈরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো চালকবিহীন যুদ্ধবিমান আকাশ থেকে আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। আর এটি অর্জন করা প্রথম সিস্টেম হলো কিজিলেলমা।’

হালুক বায়রাকতার জানান, ইন্দোনেশিয়া প্রায় এক বছর ধরে কিজিলেলমা নিয়ে চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছিল। তবে যুদ্ধবিমানের পরীক্ষা এবং দেশের ভেতরে প্রাথমিক সরবরাহ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বায়কার চুক্তি সই করা থেকে বিরত ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা ১২টি বায়রাকতার কিজিলেলমা যুদ্ধবিমানের জন্য প্রথম রপ্তানি চুক্তি সই করেছি। আমাদের লক্ষ্য ২০২৮ সালে এর প্রথম সরবরাহ শুরু করা।’

ড্রোন, এআই এবং লোয়েটারিং মিউনিশনে বিনিয়োগ

রপ্তানি থেকে পাওয়া আয় দিয়ে বায়কার তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করে বলে জানান হালুক। একইসঙ্গে সেলচুক বায়রাকতারের নেতৃত্বে ‘ফারগনি স্পেস’ উদ্যোগের মাধ্যমে মহাকাশ প্রযুক্তিতেও তারা বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

তিনি জানান, বায়কার এখন তাদের সব লোয়েটারিং মিউনিশনে ব্যবহৃত ইঞ্জিনগুলো নিজেরাই তৈরি করছে। বিশাল পরিসরে উৎপাদনের জন্য সাপ্লাই চেইনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করতে হলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন প্রয়োজন।’

সাহা ২০২৬ থেকে পাওয়া মুনাফা ব্যবহার করে তুরস্কের ৮১টি প্রদেশ এবং তুর্কি রিপাবলিক অব নর্দান সাইপ্রাসে ড্রোন ও শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন বায়রাকতার। তিনি জানান, ইস্তাম্বুলে একটি বিশাল উন্মুক্ত ড্রোন পার্ক স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে বায়কারের, যেখানে তরুণরা ড্রোন তৈরি, পরীক্ষা এবং ওড়ানোর সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইস্তাম্বুলে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত একটি ড্রোন পার্ক করতে চাই, যেখানে তরুণ এবং শিশুরা আসতে পারবে।’

তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাত দেশটির প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব এবং শিল্প বিকাশের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বায়রাকতার।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি একটি শক্তিশালী তুরস্ক গড়তে চাই এবং এমন একটি কঠিন ভৌগোলিক অবস্থানে আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চাই, তবে একমাত্র প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বের মাধ্যমেই তা অর্জন করা সম্ভব।’

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.