ট্রাম্প বললেন টোলমুক্ত, ইরান বলছে ফি লাগবে—হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন বিতর্ক
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার অগ্রগতির মধ্যেই তেহরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর সরাসরি ‘টোল’ আরোপ করতে চায় না, তবে নির্দিষ্ট কিছু ‘সেবার’ বিনিময়ে ফি আদায় করতে পারে।

ইরানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেবার নামে অর্থ আদায়ের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক আইনের ক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং এটি ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর অংশ হিসেবে তিনি এটিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেন।
তবে একদিন না যেতেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান কোনো ট্রানজিট টোল আরোপ করতে চায় না, কিন্তু বিভিন্ন সেবার বিনিময়ে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে কী ধরনের সেবা দেওয়া হবে কিংবা ফি কত হতে পারে—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি তেহরান।
আন্তর্জাতিক নৌ-আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, টোল ও ফি-র মধ্যে আইনি পার্থক্য থাকলেও বাস্তব প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে একই হতে পারে।
টোল বলতে বোঝায় কোনো পথ বা জলপথ ব্যবহার করার জন্য সরাসরি অর্থ আদায়। অন্যদিকে ফি সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো সেবার বিনিময়ে নেওয়া হয়, যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নৌ-নিরাপত্তা বা বন্দরের সুবিধা।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো রাষ্ট্র যদি প্রাকৃতিক আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের জন্য বাধ্যতামূলক অর্থ আদায় করে, তবে সেটিকে শুধু নাম বদলে বৈধ করা যায় না।
নৌ-আইন বিশ্লেষক জেমস আর. হোমসের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্রের জন্য প্রাকৃতিক জলপথে চলাচলের বিনিময়ে অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। আপনি একে টোল বলুন কিংবা ফি বলুন—মূল প্রশ্ন হলো অর্থ আদায়ের বৈধতা।
পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বাধা বা অতিরিক্ত ব্যয় আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি জাহাজগুলোকে নতুন কোনো ফি দিতে হয়, তাহলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জ্বালানির দাম, পণ্য পরিবহন খরচ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার চিন্তা শুরু করে ইরান।
মার্চ মাসে তেহরান প্রথম জানায়, তারা জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর জন্য বিশেষ ফি আরোপের কথা বিবেচনা করছে। পরে মে মাসে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়, যার দায়িত্ব হবে নিরাপদ নৌ-চলাচল তদারকি ও অনুমতি ব্যবস্থাপনা।
এ সময় প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থপ্রদানের কাঠামো নিয়েও আলোচনা শুরু করে ইরান। ইরানের এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের টোল আরোপের প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনও শুরু থেকেই এই ধারণার বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প সম্প্রতি আবারও স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী মুক্ত ও বাধাহীন রাখতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অতিরিক্ত ফি বা অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এটি কূটনৈতিক সমঝোতার পথও কঠিন করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান আপাতত ‘টোর’ শব্দটি এড়িয়ে ‘সেবামূলক ফি’র ধারণা সামনে আনলেও আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিষয়টি সহজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
তবে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন বিতর্ক ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আর বিশ্বের জ্বালানি বাজার এখন নজর রাখছে—তেহরান শেষ পর্যন্ত কেবল নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সেবার জন্য অর্থ নেবে, নাকি এটি ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক নৌপথে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশলে পরিণত হবে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.