ফুটবল বিধাতা বড় নিষ্ঠুর; বছরের পর বছর উজবেকিস্তানের জন্য তিনি শুধু ট্র্যাজেডির ইতিহাসই লিখেছেন। এশিয়ান বাছাইপর্বের শেষ মুহূর্তে গিয়ে কতবার যে তারা বুকভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ তাদের সেই দীর্ঘশ্বাসের অবসান ঘটিয়েছে। ‘হোয়াইট উলভস’ বা শ্বেত নেকড়েরা এবার প্রথমবারের মতো পা রেখেছে বিশ্বমঞ্চে। আর তাদের এই ঐতিহাসিক যাত্রার নেপথ্যে কারিগর হিসেবে কাজ করছেন ইতালির রক্ষণভাগের কিংবদন্তি জাদুকর ফ্যাবিও ক্যানাভারো। গ্রুপ ‘কে’-তে তাদের সঙ্গী পর্তুগাল, কলম্বিয়া আর ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। লড়াইটা কঠিন, কিন্তু এই আন্ডারডগদের হালকাভাবে নেওয়ার ভুল অন্তত ক্যানাভারোর শিষ্যদের ক্ষেত্রে কেউ করবে না।

২০২৬ বিশ্বকাপ: ক্যানাভারোর জাদুতে 'শ্বেত নেকড়ে' উজবেকিস্তানের বিশ্বমঞ্চে অভিষেক
উজবেকিস্তান ফুটবল দল।

ইতালীয় ফুটবলের সেই বিখ্যাত রক্ষণাত্মক দেওয়াল ক্যানাভারো যেন তুলে দিয়েছেন তাসখন্দের ফুটবলারদের মনে। ক্যানাভারোর হাতের ছোঁয়ায় উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগ এখন ইস্পাতকঠিন। মাঠের ছকটি মূলত তিন সেন্টারব্যাকের হলেও বল হাতছাড়া হলেই তা চোখের পলকে বদলে যায় ৫-৪-১ ফরমেশনের এক নিশ্ছিদ্র খাঁচায়, যেখানে প্রতিপক্ষ খাবি খেতে বাধ্য হয়। বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডে ১৬ ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র একটিতে হেরেছে এবং হজম করেছে সবচেয়ে কম গোল। এই দলের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে তাদের একতায়। ২৬ জনের স্কোয়াডের ১৫ জনই খেলেন নিজেদের দেশের ঘরোয়া লিগে। ফলে কার খেলার ধরন কেমন, তা তারা একে অপরের চোখের ইশারায় বুঝতে পারেন। বড় তারকাখচিত দলগুলো যেখানে শুরুতে তাল মেলাতে হিমশিম খায়, সেখানে উজবেকিস্তানের রসায়ন একেবারে নিখুঁত।

পাশাপাশি সেট-পিস বা ডেড-বল পজিশনে তারা রীতিমতো আতঙ্ক। কর্নার কিংবা ফ্রি-কিক পেলেই লম্বা চওড়া ডিফেন্ডাররা প্রতিপক্ষের বক্সে শিকারি বাজপাখির মতো ওত পাতে। দলের মেরুদণ্ড গড়ে উঠেছে তিনজনকে ঘিরে—রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী আবদুকোদির খুসানভ, মাঝমাঠের ক্ষিপ্র জাদুকর আব্বোসবের ফায়জুল্লায়েভ এবং গোলক্ষুধার্ত অধিনায়ক এলডর শমুরুদভ। তবে এই শক্তির আড়ালে কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। উজবেকিস্তানের প্রধান সমস্যা হলো নিজে থেকে খেলা তৈরি করতে না পারা। প্রতিপক্ষ যদি কাউন্টার-অ্যাটাকের সুযোগ না দিয়ে রক্ষণাত্মক খেলে, তবে উজবেক মাঝমাঠের সৃজনশীলতার অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। তখন তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় শমুরুদভের দিকে লম্বা করে ভাসিয়ে দেওয়া বল।

বিশ্বমঞ্চের এই বিশাল চাপের সঙ্গেও তারা খুব একটা অভ্যস্ত নয়। খুসানভ ছাড়া দলের বাকিদের শীর্ষ সারির লিগে খেলার অভিজ্ঞতা কম। কলম্বিয়া বা পর্তুগালের গতির ফুটবল সামলানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। সবচেয়ে বড় ভয়—প্রতিপক্ষ যদি শমুরুদভকে আটকে ফেলে, তবে গোল করার মতো বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। কাগজে-কলমে উজবেকিস্তান পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট তাদের সামনে সুযোগের জানালা খুলে দিয়েছে। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু হবে। ক্যানাভারোর লক্ষ্য সেখানে পরিষ্কার—নিজেদের রক্ষণ সামলে ড্র বের করে আনা। তবে আসল লড়াই হবে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে। আটটি সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলও এবার শেষ ৩২-এর টিকিট পাবে, তাই কঙ্গোকে হারাতে পারলে উজবেকিস্তানের রূপকথা নতুন মোড় নিতে পারে। রক্ষণভাগের নিরেট শৃঙ্খলাকে পুঁজি করে হয়তো শ্বেত নেকড়েরা চুপিচুপি নক-আউটের মঞ্চে উঠে ইতিহাস গড়বে।

ডা. আবু হেনা মোস্তফা বেলাল, ক্রীড়া অনুরাগী ও লেখক।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.