যুক্তরাষ্ট্র-জিসিসির বিবৃতিতে ক্ষুব্ধ ইরান
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দেওয়া যৌথ বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। এই বিবৃতিকে হস্তক্ষেপমূলক, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে দেশটি। একইসঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের আঞ্চলিক নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ২৫ জুন বাহরাইনে অনুষ্ঠিত জিসিসি-মার্কিন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ ইশতেহারের সমালোচনা করে। এ অঞ্চলে অব্যাহত শত্রুতামূলক ও হস্তক্ষেপমূলক আচরণের বিষয়েও সতর্ক করে তেহরান।
জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার প্রতি ওয়াশিংটনের কথিত দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতিকে নিছক বাগাড়ম্বর ও বাস্তবতার বিকৃতি বলে প্রত্যাখ্যান করে ইরান। দেশটির দাবি, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিরাপত্তাহীনতা ও বিভাজনের উৎসে পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় আঞ্চলিক দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি এবং স্থাপনা ব্যবহারের ঘটনা প্রমাণ করে যে ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক অংশীদারদের সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেয় না।
সংঘাতের সময় যেসব আঞ্চলিক দেশের ভূখণ্ড ও স্থাপনা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় ইরান। আন্তর্জাতিক আইন ও সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতি অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কাজ চালাতে তৃতীয় পক্ষকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে তেহরান স্মরণ করিয়ে দেয়।
নিজেদের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বারবার ওঠা অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করে ইরান। এগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বানোয়াট দাবি উল্লেখ করে তেহরান পশ্চিম এশিয়ায় একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করার জন্য জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়।
জিসিসি-মার্কিন ইশতেহারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার বিষয়ে করা মন্তব্যেরও নিন্দা জানানো হয়। তেহরান স্পষ্ট করে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা রক্ষার ক্ষেত্রে তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।
ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে ‘ইরানের প্রক্সি’ হিসেবে বর্ণনা করায় জিসিসি, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সমালোচনা করে ইরান। তাদের দাবি, ওই অঞ্চলে একমাত্র প্রক্সি হলো ইসরায়েল।
হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তেহরান জানায়, এই জলপথে নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ সরাসরি দায়ী। এর সঙ্গে কিছু আঞ্চলিক দেশের যোগসাজশ রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করে, হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যুদ্ধ-সমাপ্তি সমঝোতা স্মারকের ৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেখানে জাহাজ চলাচল পরিচালিত হবে।
জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে ইরান জোর দিয়ে বলে, বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল সম্মিলিত নিরাপত্তা অর্জন করা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র এবং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের দেশগুলো হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানায়। তারা জোর দিয়ে বলে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এই কৌশলগত জলপথে অবাধ চলাচল অপরিহার্য।
মানামায় যুক্তরাষ্ট্র-জিসিসি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ট্রানজিট পাসের অধিকারসহ অবাধ, শর্তহীন ও বাধামুক্ত নৌ চলাচলের ওপর জোর দেয়। তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর যেকোনো ধরনের টোল, ফি বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শত্রুতার আরও স্থায়ী অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঐক্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন মন্ত্রীরা। পাশাপাশি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন থেকে বিরত রাখার অভিন্ন লক্ষ্যের কথাও উল্লেখ করেন তারা।
তারা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটিকে স্বাগত জানান এবং এক্ষেত্রে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতার ভূমিকার স্বীকৃতি দেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যেকোনো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শর্তসাপেক্ষ এবং পরিবর্তনযোগ্য হবে। এটি সমঝোতা স্মারক ও যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির প্রতি তেহরানের সম্মতি এবং তাদের অস্থিতিশীল আচরণের অবসানের ওপর নির্ভর করবে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.