সেনা প্রত্যাহারে লেবানন-ইসরায়েল মতবিরোধ
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ওয়াশিংটনে চলমান লেবানন-ইসরায়েল আলোচনায় গভীর মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এই মতবিরোধের জেরে আলোচনার পঞ্চম রাউন্ড আরও এক দিন বাড়ানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার এ তথ্য প্রকাশ করে। ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আলোচনার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর তথ্যমতে, মূল বিরোধের কারণ হলো ইসরায়েলের নির্ধারণ করা ‘ইয়েলো লাইন’ বা ‘অ্যান্টি-ট্যাংক লাইন’। এপ্রিলে লেবানন সীমান্তের ভেতর প্রায় ৮ কিলোমিটার (৫ মাইল) পর্যন্ত এই কাল্পনিক রেখাটি টানা হয়। এই রেখার ভেতরের এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে ইসরায়েল। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের বিউফোর্ট ক্যাসেল পাহাড়চূড়ায় নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে তারা অনড় অবস্থানে রয়েছে।
ইসরায়েল দখল করা কিছু এলাকা থেকে শর্তসাপেক্ষে আংশিক সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। অন্যদিকে লেবানন চাইছে, ইয়েলো লাইনের ভেতরে থাকা মাজদাল জাউন, জিবকিন, বেইত লিফ, তায়রি ও কউনিনসহ সব গ্রাম ও শহর থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হোক।
জেরুজালেম পোস্ট সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশের জন্য ওয়াশিংটন একটি পরীক্ষামূলক পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছে। এর আওতায় লেবাননের সেনাবাহিনী পর্যায়ক্রমে খালি করা এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ভেঙে দেবে। তবে এই পরিকল্পনা কোথা থেকে শুরু হবে তা নিয়ে মূল মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন চাইছে, বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে থাকা এলাকাগুলো থেকে এটি শুরু হোক। কিন্তু ইসরায়েল এমন এলাকায় এটি পরীক্ষা করতে চায় যেখানে তাদের সেনা নেই। এর মাধ্যমে তারা হিজবুল্লাহর কার্যক্রম ঠেকাতে লেবাননের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা যাচাই করতে আগ্রহী।
তেল আবিবে এক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল সেখানেই থাকবে।’
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহারের দাবি জানালেও সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা বলয় থেকে সরবে না।’ তিনি উত্তর ইসরায়েলের সম্প্রদায়গুলোকে রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ইয়েদিওত আহারনত পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ছেড়ে দেওয়া এলাকাগুলোতে লেবাননের সেনা মোতায়েন তদারকি করতে একটি মার্কিন সমন্বয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে একটি নিরাপত্তা যোগাযোগ মাধ্যম তৈরির বিষয়েও কথা হচ্ছে। যেকোনো সম্ভাব্য সেনা প্রত্যাহারের জন্য কয়েক দিনের যৌক্তিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানায়, প্রস্তুতি বাড়াতে এবং প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে কয়েকটি কমব্যাট ব্রিগেড সরিয়ে নিয়েছে। সামরিক সংবাদদাতা দোরোন কাদোশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধরত সেনাসংখ্যা কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। কিছু ব্রিগেড প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উচ্চ সতর্কতায় থাকবে এবং প্রয়োজনে রিজার্ভ বাহিনী সক্রিয় ইউনিটগুলোর জায়গা নেবে।
সুইজারল্যান্ডে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় সমর্থন জোগাতে লেবাননে সামরিক উত্তেজনা কমানোর জন্য তেল আবিবের ওপর মার্কিন চাপ রয়েছে। এই খবরের মধ্যেই ইসরায়েলি হামলার পরিমাণ কমে আসার বিষয়টি সামনে আসে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ অবসানে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এরপর ২১ জুন থেকে আলোচনা শুরু হয়। এই কাঠামোর মধ্যে লেবানন সংঘাতের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এরপরও ইসরায়েল কয়েক দিন ধরে তীব্র হামলা অব্যাহত রাখে এবং রবিবার থেকে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনে। এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে লেবাননের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা দখল করে রেখেছে। এর মধ্যে কিছু এলাকা কয়েক দশক ধরে এবং কিছু এলাকা ২০২৩-২০২৪ সালের যুদ্ধে দখল করা হয়। তাদের বর্বরোচিত অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডে ১০ কিলোমিটারের (৬ মাইল) বেশি ভেতরে প্রবেশ করে, যা ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর তাদের সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ।
লেবাননের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ জঘন্য এই সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ২৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ১২ হাজার ১৭৯ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ জনের মৃত্যু এবং আটজনের আহত হওয়ার খবর রেকর্ড করা হয়। তবে গত এক দিনে সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে নাকি আগে বোমা হামলা হওয়া এলাকাগুলো থেকে উদ্ধার করা মৃতদেহ এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেনি।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.