অতীত ভুলে সম্পর্ক জোরদারে সম্মত ইতালি ও ফ্রান্স
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইতালি ও ফ্রান্স। দেশ দুটির নেতারা নিজেদের সম্পর্ককে অপরিহার্য হিসেবে উল্লেখ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর জোর দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রথম দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে তারা এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।

ফ্রান্সের অঁতিব শহরে এক বৈঠকে মিলিত হন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তারা জানান, উভয় দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং তারা সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চান। এর মাধ্যমে দেশ দুটির অর্থনীতির মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এই আলোচনার অন্যতম প্রধান ফলাফল ছিল লেবানন নিয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ। দেশটিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন ইউনিফিলে ফ্রান্স ও ইতালি উভয় দেশই অবদান রাখছে।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে প্যারিস ও রোম একটি জোট গঠন করতে চায়। মিশন শেষ হওয়ার পরবর্তী সময়ের জন্য একটি রূপরেখা নির্ধারণ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকির বিপরীতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই জোট কাজ করবে।
জর্জিয়া মেলোনি জানান, এই প্রচেষ্টার ফলে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ভূমধ্যসাগরীয় নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
প্রতিরক্ষা ও শিল্প সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশ দুটি যৌথ সক্ষমতার ওপর জোর দিয়ে একটি রোডম্যাপ স্বাক্ষর করেছে। ইউক্রেনে সরবরাহ করা ফরাসি-ইতালীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এর অন্তর্ভুক্ত।
পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তিতে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইউরোপের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন জোরদার করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত ইউরোপীয় স্যাটেলাইট উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে দেশ দুটি।
অভিবাসন, অর্থনৈতিক নীতি ও পররাষ্ট্র বিষয়ক অতীত মতবিরোধের পর দুই দেশের সরকারের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাশে দাঁড়িয়ে জর্জিয়া মেলোনি সব ধরনের উত্তেজনার জল্পনা উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, দুই নেতাই নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেন, তবে তারা খোলামেলা সংলাপের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করতে সক্ষম।
জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘এমন অনেক সময় এসেছে যখন আমরা একমত হতে পারিনি।’
একে অপরের অবস্থান বোঝার ক্ষমতার ওপরই সহযোগিতা নির্ভর করে বলেও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রোম ও প্যারিস কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিবাদসহ প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে পূর্ববর্তী কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর ইউরোপ এবং পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে ইতালির ভূমিকা শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন মেলোনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ ফ্রান্স ও ইতালি ক্রমশ ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং শিল্প নীতির মতো অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলোতে সমন্বয়ের ওপর জোর দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের শীর্ষ সম্মেলনটি অতীতের বিরোধগুলো পেছনে ফেলে আরও সুসংগঠিত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে। এই প্রসঙ্গে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন, ‘ইতালি ও ফ্রান্স ছাড়া ইউরোপ এবং পশ্চিমা বিশ্ব আজকের মতো হতে পারত না।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.