আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বে ফেরার প্রথম বছরেই ১৪০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে তিনি এই আয় করেছেন বলে সরকারি আর্থিক বিবরণীতে উঠে এসেছে। নতুন এ তথ্য প্রকাশের পর সম্ভাব্য ‘স্বার্থের সংঘাত’ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। খবর আল জাজিরার

ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে এক বছরে ট্রাম্পের আয় ১৪০ কোটি ডলার
ডোনাল্ড ট্রাম্প

মঙ্গলবার (৩০ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিকস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বার্ষিক আর্থিক তথ্য প্রকাশ করে। ৯২৭ পৃষ্ঠার ওই নথিতে ট্রাম্পের ২০২৫ সালের সম্পদ ও আয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগ থেকে তার আয় হয়েছে ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি।

নথি অনুযায়ী, ট্রাম্প ও তার ছেলেদের সহ-প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল থেকে তিনি ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন। এছাড়া তার নামে চালু হওয়া মিম-কয়েন বিক্রি করে আরও ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় হয়েছে।

প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত করছে, ডিজিটাল সম্পদে বিনিয়োগ এখন ট্রাম্পের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এমনকি এটি তার বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্য থেকেও বেশি আয় করছে। এই তথ্য প্রকাশের পর ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা নিয়ে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে একাধিক ক্রিপ্টোবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই তিনি একটি জাতীয় কৌশলগত ক্রিপ্টোকারেন্সি রিজার্ভ গঠনের ঘোষণা দেন, যার উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট কিছু ডিজিটাল সম্পদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

পাশাপাশি তিনি হোয়াইট হাউসে ইতিহাসের প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ওই সম্মেলনে প্রযুক্তি খাতের এমন কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী অংশ নেন, যাদের বিরুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় তদন্ত চলছিল।

তবে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প সেই অবস্থান পরিবর্তন করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিবন্ধন ছাড়া ব্রোকার হিসেবে কাজ করার অভিযোগ ছিল।

এ ছাড়া আরও কয়েকটি ডিজিটাল মুদ্রা প্রতিষ্ঠান জালিয়াতিমূলক লেনদেনের অভিযোগে তদন্তের আওতায় ছিল। সরকারি নজরদারি শিথিল করার পাশাপাশি ট্রাম্প জিনিয়াস অ্যাক্টসহ নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও সমর্থন করেন।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে কংগ্রেসে পাস হওয়া ওই আইনে স্টেবলকয়েনের জন্য একটি সাধারণ নিয়ন্ত্রক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। এতে বলা হয়, প্রতিটি স্টেবলকয়েনের বিপরীতে এক-এক অনুপাতে মার্কিন ডলারের রিজার্ভ থাকতে হবে। সমর্থকদের মতে, এই আইন ক্রিপ্টোকারেন্সিকে মূলধারায় নিয়ে আসতে সহায়তা করবে।

আইনটিতে স্বাক্ষরের সময় ট্রাম্প বলেন, বহু বছর ধরে পুরো ক্রিপ্টো সম্প্রদায়কে উপহাস করা হয়েছে, অবহেলা করা হয়েছে এবং গুরুত্বহীন বলে মনে করা হয়েছে। কিন্তু আজকের এই আইন সেই সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি।

তবে ক্রিপ্টোকারেন্সি শিল্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সমালোচনা বাড়ছে। গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাট দলের পাঁচ সিনেটর যাদের মধ্যে এলিজাবেথ ওয়ারেন ও রিচার্ড ব্লুমেনথাল রয়েছেন, তারা রিপাবলিকান সিনেটরদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত লেনদেনের বিষয়ে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়।

তারা উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ট্রাম্প পরিবারের সহ-মালিকানাধীন ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালে বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আরেক অংশীদার হলেন সরকারি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছেলেরা।

ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার বিনিময়ে ইউএই কী ধরনের সুবিধা পেয়েছে বা পেতে পারে—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে কংগ্রেসে শুনানি আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.