আপনি পড়ছেন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ও দেওয়াল ধসে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে বান্দরবানের লামায় একই এলাকার পাঁচজন, বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ায় পাঁচ মাদ্রাসাছাত্রী ও চট্টগ্রামের দুই শিশু রয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ, তলিয়ে গেছে রেললাইন ও সড়ক এবং সাজেকে আটকা পড়েছেন শত শত পর্যটক।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২৭ জনের মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ
বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসে বিধ্বস্ত একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা

বৃহস্পতিবার ভোরে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশন পাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ভোর চারটার দিকে প্রথম পাহাড়ধসে মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলায়মান মারা যান। এর দেড় ঘণ্টা পর একই এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসে মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৫) নিহত হন। বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘লামায় একই এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’

এর আগে বুধবার দুপুর দুইটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ের পাশে নির্মিত একটি রিটেইনিং দেওয়াল ধসে নারী হিফজ মাদ্রাসার পাঁচ ছাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত তিন ছাত্রীকে কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মাদ্রাসাটি থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং দেওয়াল ধসে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক সিরাজ আমীন নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তারা হলো—রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) এবং উমাইসা বিবি (১৩)।

অন্যদিকে বুধবার চট্টগ্রামে পৃথক পাহাড়ধসে ১০ মাস বয়সী শিশু আশরাফুল ইসলাম এবং ১৩ বছর বয়সী সামিয়া ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে রোববার ও মঙ্গলবার কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এবং রাঙামাটিতে পাহাড় ও দেওয়াল ধসে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে এই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বুধবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলোক পাল জানান, আষাঢ়ের প্রথম ২০ দিন তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় বর্তমান বৃষ্টিপাতকে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তবে তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের অভাবের সমালোচনা করে বলেন, ‘শুরুতেই সঠিক প্রস্তুতি নিলে অনেক প্রাণহানি এড়ানো যেত।’ অন্যদিকে, আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান জানান, ভারী বৃষ্টির বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল এবং উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপ তৈরি হলে এমন বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক।

টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আগ্রাবাদের এক রেস্তোরাঁ মালিক মোহাম্মদ রাশেদ জানান, ড্রেন ও খালগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় এবার জলাবদ্ধতা বেশি হয়েছে এবং ক্রেতা না থাকায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এছাড়া চট্টগ্রামের সুন্নিয়া মাদ্রাসা ও শমসেরপাড়া এলাকায় প্রায় চার কিলোমিটার রেললাইন দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার সকালে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে রেলপথ উপদেষ্টা হাবিবুর রশিদ জানান, ভবিষ্যতে বন্যা রোধে ক্ষতিগ্রস্ত রেলওয়ে বাঁধটি পাঁচ ফুট উঁচু করা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল কবে শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকে প্রায় ৪৫০ জন পর্যটক আটকা পড়েছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। দুর্যোগ মোকাবিলায় পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.