চরমপন্থিদের তোষণ: তোপের মুখে নেতানিয়াহু
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চরম ডানপন্থি ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন এবং তাদের স্বার্থ রক্ষাকারী আইনে সমর্থন দেওয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। চরমপন্থিদের ক্ষমতার বাইরে রাখতে একটি বিস্তৃত জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সমালোচনা করেন।

এক্সে ইয়ার লাপিদ লেখেন, ‘চরমপন্থিদের কাছাকাছি যাওয়া, তাদের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা বা তাদের সন্তুষ্ট করার কোনো মানে হয় না। কারণ তারা সদিচ্ছার মূল্য বোঝে না।’
তিনি বলেন, ‘চরমপন্থিরা কেবল একটি জিনিসই দেখে, আর তা হলো আরও ক্ষমতা।’ তারা যেকোনো সুযোগ কাজে লাগাবে এবং যারা তাদের ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ দেবে, তারাই তাদের প্রথম শিকার হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চরমপন্থিরা গণতান্ত্রিক নিয়মাবলি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন লাপিদ। তাদের সরাসরি মোকাবিলা করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আপনাদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োজন হয়, তবে তা প্রণয়ন করা হবে। আর যদি আপনাদের বাদ দিতে হয়, তবে আমরা কোনো দ্বিধা ছাড়াই তা করব।’
চরমপন্থিদের কোনো ছাড় না দেওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘বিস্তৃত ও দৃঢ় জোট’ গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
কট্টর ডানপন্থি ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে নেতানিয়াহুর জোটের কথা উল্লেখ করে লাপিদ জানান, প্রধানমন্ত্রী ভেবেছিলেন তিনি কট্টর ডানপন্থি জিউশ পাওয়ার পার্টির নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভিরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু কী ঘটল? শেষ পর্যন্ত কে কাকে নিয়ন্ত্রণ করল? তারা কী আইন প্রণয়ন করল এবং কী নীতি বাস্তবায়ন করল? তারা যে খুব মেধাবী তা নয়, বরং তারা চরমপন্থি হওয়ার কারণেই এমনটা হয়েছে।’
লাপিদ বলেন, ‘কাউকে না কাউকে তাদের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিতে হবে এবং স্পষ্টভাবে ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে হবে, এখানে এসব মতাদর্শের কোনো স্থান নেই। আমরাই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।’
২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ভেঙে দেওয়ার পক্ষে ভোট দেওয়ার একদিন পর তার এই মন্তব্য সামনে এলো। নেতানিয়াহু ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দলগুলো তাকে এবং তার মিত্রদের ক্ষমতাচ্যুত করার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার কয়েকদিন আগে নেসেট ‘তোরহ স্টাডি’ বিষয়ক একটি মৌলিক আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে ‘ইয়েশিভা’ নামে পরিচিত ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিশেষ আইনি মর্যাদা দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওত আহারোনোত জানায়, এই আইন সুপ্রিম কোর্টের কাছে কট্টরপন্থি অর্থোডক্স ইহুদিদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে এবং ভবিষ্যতে তাদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইনের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
সংবাদপত্রটির মতে, নেতানিয়াহু ও কট্টর অর্থোডক্স দলগুলো একমত হয়েছে যে, ক্ষমতাসীন জোট তাদের স্বার্থ রক্ষাকারী আইনগুলোতে সমর্থন দেবে। এর মধ্যে তোরহ অধ্যয়ন আইন এবং সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকাদের গ্রেপ্তার স্থগিত করার পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বিনিময়ে কট্টর অর্থোডক্স দলগুলো সংবাদমাধ্যমকে দুর্বল করা এবং সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা কমানোর উদ্দেশ্যে আনা বিলগুলোকে সমর্থন করবে।
ইসরায়েলের এক কোটির বেশি জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ হারেদিম সম্প্রদায়ভুক্ত। সার্বক্ষণিক তোরহ অধ্যয়নের কারণ দেখিয়ে তারা সামরিক পরিষেবা প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি, ধর্মনিরপেক্ষ সমাজে একীভূত হলে তাদের ধর্মীয় পরিচয় হুমকির মুখে পড়বে।
কয়েক দশক ধরে হারেদি পুরুষরা ১৮ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি এড়িয়ে আসছেন। ধর্মীয় শিক্ষার কারণ দেখিয়ে তারা বর্তমান অব্যাহতি বয়স ২৬ বছর হওয়া পর্যন্ত বারবার এই অন্তর্ভুক্তি পিছিয়ে দেন।
তবে ২০২৪ সালে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে হারেদিমদের অবশ্যই সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, সেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন স্থগিত করারও নির্দেশ দেয় আদালত।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.