বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন স্প্যানিশ লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। সম্প্রতি ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর এই নতুন পরিকল্পনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

৬৪ দলের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তোপের মুখে ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড়ের লাল কার্ড প্রত্যাহার, ফাইনালে ২৭ মিনিটের বিরতি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। এরই প্রেক্ষিতে ৬৩ বছর বয়সী তেবাসকে প্রশ্ন করা হয়, ১০ বছর ধরে ফিফার দায়িত্বে থাকা ইনফান্তিনোর এখন সরে দাঁড়ানো উচিত কি না।

উত্তরে তেবাস বলেন, ‘আমার মতে, হ্যাঁ, তার সময় শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে সিস্টেম ও ফেডারেশনগুলোর সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে। সেখানে কোনো বিরোধী প্রার্থী নেই, কারণ কেউ হারার জন্য নিজেকে উপস্থাপন করতে চায় না।’

পুরো ব্যবস্থাটি গোড়া থেকেই অসুস্থ বলে মন্তব্য করেন তেবাস। যারা নীরব আছেন তারা ফুটবলের ক্ষতির বিষয়টি পুরোপুরি জানেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়েতেও তিনটি উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। এই আসরে আরও বেশি দেশ যুক্ত করার পদক্ষেপে ঘরোয়া লিগগুলো চরম ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তেবাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয় দলের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো মানে হয় না। ফুটবল শিল্প মানেই শুধু বিশ্বকাপ নয়, যদিও এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। তবে সবকিছু বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ঘুরতে পারে না।’ তার মতে, আন্তর্জাতিক ম্যাচের এই ক্রমাগত সম্প্রসারণ ইউরোপজুড়ে ক্লাবগুলোর হাজার হাজার সাধারণ কর্মীর চাকরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

তিনি বলেন, ‘তারা এমন একটি শিল্প ধ্বংস করছে, যা হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করে। আর এসব কিসের জন্য? মাত্র ৪০ দিনের একটি ইভেন্ট, যেখানে খুব কম সংখ্যক খেলোয়াড় অংশ নেয়।’ সব পর্যায়ে জাতীয় ফুটবলের জন্য আরও বেশি সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আগামী মার্চে ফিফার কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য পুনরায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো। তবে তেবাস মনে করেন, ফোলারিন বালোগুন বিতর্কের কারণেই এই সভাপতির পদচ্যুত হওয়া উচিত ছিল। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড পেয়ে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের এই স্ট্রাইকার। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ফোন কলের পর ফিফার শৃঙ্খলামূলক কমিটি বিতর্কিতভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। এর ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পান বালোগুন।

তেবাস বলেন, ‘মার্কিন খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তারা ভাগ্যবান যে বেলজিয়াম যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করেছিল, তা না হলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতো যা ইনফান্তিনোর চাকরি কেড়ে নিতে পারত।’ বেলজিয়াম জেতায় তারা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পেরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে টিভি বিজ্ঞাপনের বিরতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন এই স্প্যানিশ ফুটবল কর্তা। তিনি দাবি করেন, টেলিভিশন সম্প্রচারকরা মিথ্যা ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করছে। তিনি বলেন, ‘যদি তাদের স্বার্থের জন্য ২৭ মিনিটের বিরতি প্রয়োজন হয়, তারা তা-ই করে। এই হাইড্রেশন ব্রেকগুলো একটা মিথ্যা।’

লা লিগাতেও প্রচণ্ড গরমের সময় এমন বিরতি দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং আটলান্টার স্টেডিয়ামগুলো সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছিল। গ্যালারিতে বসে আমাকে রীতিমতো সোয়েটার পরতে হয়েছিল! গরমের অজুহাতটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল, এটি মূলত বিজ্ঞাপনের বিরতির জন্য একটি বাহানা মাত্র।’

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.