সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এখন আর কেবল তরুণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, অনেক পরিবারে মা-বাবাদের মধ্যেও এই আসক্তি প্রকাশ পাচ্ছে। এর ফলে একই ছাদের নিচে বসবাস করেও পারিবারিক পারস্পরিক যোগাযোগ ও আন্তরিকতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মা–বাবার অতিরিক্ত ফেসবুক আসক্তি: পারিবারিক দূরত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কায় সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের
ছবি - সংগৃহীত

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন লাইক, মন্তব্য বা ভিডিও দেখার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের একধরনের রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা সাময়িক আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। এর পাশাপাশি অ্যাপগুলোর অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী নতুন তথ্য সামনে আনতে থাকে। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে আটকে পড়েন। অতিরিক্ত আসক্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা ঘুম ব্যাহত হলে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে বিলম্ব না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের অনেকেই অভিযোগ করছেন, তাদের অভিভাবকেরা অবসর সময় কাটানোর জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করা বা কোনো কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বদলে মুঠোফোনে ব্যস্ত থাকছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল বেশি সময় ব্যবহার করাই আসক্তির একমাত্র প্রমাণ নয়। তবে ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া, ফোন দূরে রাখলে বিরক্তি বা অস্থিরতা আসা, খাবার বা আড্ডার মাঝেও ঘন ঘন নোটিফিকেশন পরীক্ষা করা এবং অনলাইনের সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার মতো লক্ষণগুলো দেখা দিলে পরিবারের অন্যান্যদের সতর্ক হতে হবে।

কেবল পারিবারিক দূরত্ব সৃষ্টিই নয়, অসচেতন ফেসবুক ব্যবহারের ফলে নানা ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় যাচাই না করে তথ্য বা ভুয়া খবর বিশ্বাস ও শেয়ার করার মাধ্যমে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অলৌকিক চিকিৎসা বা ভেষজ ওষুধের বিজ্ঞাপন দেখে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন অনেকেই। পাশাপাশি ভুয়া বিনিয়োগের প্রস্তাব বা পরিচিত সেজে অর্থ দাবির মতো সাইবার অপরাধের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অপরিচিত কারো সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য বা আর্থিক অ্যাকাউন্টের গোপনীয় নম্বর শেয়ার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

পরিবারে এই প্রযুক্তিগত আসক্তি কমাতে রাগারাগির বদলে ইতিবাচক চর্চার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সবাই মিলে হাঁটা, বোর্ড গেম খেলা, স্মৃতিচারণ করা এবং খাবারের সময় মোবাইল ব্যবহার বন্ধ রাখার মতো নিয়ম চালু করা যেতে পারে। সপ্তাহে অন্তত এক দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নেওয়া এবং ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখা পরিবারে ইতিবাচক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.