আপনি পড়ছেন

২০১১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত লিবিয়ার বিবদমান দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক জোরদার করছে তুরস্ক। ত্রিপোলির জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারের পাশাপাশি পূর্ব লিবিয়ার খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সঙ্গেও আঙ্কারা যোগাযোগ বাড়িয়েছে। মূলত লিবিয়ার রাজনৈতিক পুনর্মিলন ও প্রাতিষ্ঠানিক একত্রীকরণের লক্ষ্যে সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করার একটি বিস্তৃত কৌশলের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি।

লিবিয়ার বিভক্তি ঘোচাতে তুরস্কের নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দিবেইবাহর সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপোলির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে এলেও ধীরে ধীরে পূর্ব লিবিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কারিগরি সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে। ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল ত্রিপোলিতে খলিফা হাফতারের আক্রমণের পর তুরস্ক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ডের (জিএনএ) প্রধান বিদেশি সমর্থক হয়ে ওঠে। সে সময় রাজধানী রক্ষার পাশাপাশি লিবিয়ার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেয় তুরস্ক। হাফতারের অগ্রগতি থামিয়ে সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তুরস্কের হস্তক্ষেপ বড় ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে সাহায্য করে, যার ফলে ২০২০ সাল থেকে দেশটিতে যুদ্ধবিরতি টিকে আছে।

২০২০ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে পূর্ব লিবিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পৃক্ততা প্রাথমিক মানবিক সহায়তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় রূপ নিয়েছে। এই সম্পর্ক উন্নয়নে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) উপ-কমান্ডার সাদ্দাম হাফতার কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার তুরস্ক সফর করে দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

পূর্ব লিবিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ালেও ত্রিপোলির সঙ্গে আঙ্কারার দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব বিন্দুমাত্র কমেনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দিবেইবাহর সঙ্গে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সময়ে তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন বেনগাজি সফর করেছেন। দুই পক্ষের সঙ্গেই সংলাপ বজায় রাখার মাধ্যমে লিবিয়ার রাজনৈতিক পুনর্মিলনে সহায়তাকারী অন্যতম প্রধান বিদেশি রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্ক নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

পূর্ব লিবিয়ার সঙ্গে তুরস্কের এই ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততাকে মিশরের দীর্ঘদিনের প্রভাবের প্রতি কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা উচিত নয়। ২০১১ সালের অভ্যুত্থানের অনেক আগে থেকেই তুর্কি কোম্পানিগুলো লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় ছিল। বর্তমানে পূর্ব লিবিয়ার সঙ্গে তুরস্কের যোগাযোগ ত্রিপোলির সঙ্গে তাদের সম্পর্কের পরিপূরক। এটি মূলত এমন সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, যারা লিবিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্ষম। একটি স্থিতিশীল লিবিয়া মূলত দেশটির জনগণের জন্যই সবচেয়ে বেশি উপকারী হবে।

লিবিয়ার কৌশলগত তাৎপর্য কেবল রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি তেল। আফ্রিকার সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে লিবিয়ায়। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে দেশটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে। লিবিয়া যখন তাদের জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, তখন তুরস্ক নিরাপত্তা সম্পৃক্ততার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতাও বাড়িয়েছে।

২০১৯ সালে জিএনএ-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ চুক্তিটি ছিল তুরস্কের জন্য একটি বড় অগ্রগতি। এই চুক্তি তুরস্ক ও লিবিয়ার মধ্যে সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ভূ-রাজনীতিকে নতুন রূপ দেয়। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিনিধি পরিষদ শুরুতে এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলেও, সম্প্রতি এটি পর্যালোচনা ও অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি আঙ্কারা ও পূর্ব লিবিয়ার মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

লিবিয়ার বিবদমান পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রশাসনের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিতে মধ্যস্থতা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রচেষ্টাকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা বিষয়ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা মাসাদ বাউলোস জানান, ওয়াশিংটন লিবিয়ার বিভক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি একক জাতীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে পুনরায় একত্রিত করতে সাহায্য করার জন্য কাজ করছে। তবে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, একটি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত অর্জন করা এখনও অত্যন্ত কঠিন।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়া সত্ত্বেও পুরো লিবিয়ার ওপর ত্রিপোলি সরকারের কর্তৃত্ব নেই। ফলে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর থেকে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রচেষ্টা থমকে আছে। সাংবিধানিক কাঠামো, নির্বাচনী আইন ও ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিবেশের কারণে লিবিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় একত্রিত করার অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। লিবিয়ার ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত এর নাগরিকদের দ্বারাই নির্ধারিত হবে। তবে গভীর বিভাজনের এই সময়ে পূর্ব ও পশ্চিম লিবিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সাম্প্রতিক সম্পৃক্ততা সংলাপের ক্ষেত্রে একটি গঠনমূলক পদক্ষেপ।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.