আপনি পড়ছেন

এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ব এখন একটি অজানা অঞ্চলে প্রবেশ করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। চরম তাপপ্রবাহ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিশ্বের সরকারগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই সতর্কবার্তা দেন।

জাতিসংঘ প্রধান: এল নিনোর প্রভাবে ‘অজানা সংকটে’ পড়ছে বিশ্ব জলবায়ু
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস

সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা, খরা, তাপপ্রবাহ এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘দুই মাস আগে আমি সতর্ক করেছিলাম যে এল নিনো আমাদের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। এখন এটি ঘরের ভেতর প্রবেশ করেছে এবং উত্তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

ইতোমধ্যেই বিশ্ব এমন একটি গ্রীষ্মকাল পার করেছে যেখানে স্পেন ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ দাবানল, তাপজনিত হাজারো মৃত্যু এবং জুন-জুলাইয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার রেকর্ড দেখা গেছে। গুতেরেস বলেন, ‘সর্বশেষ বিজ্ঞান অনুযায়ী এটি কেবল একটি মহড়া ছিল।’ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নতুন পূর্বাভাস উদ্ধৃত করে তিনি জানান, প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা এই পর্যায়ে নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ অঞ্চলগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবর পর্যন্ত পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে। এতে মৌসুমী তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা বাড়ছে। অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘রায়টি স্পষ্ট, জলবায়ু সংকট এখন চরম পর্যায়ে রয়েছে।’

এল নিনো বিশ্বব্যাপী বৃষ্টিপাতের ধরনকেও ব্যাহত করে। ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ ও আফ্রিকায় আরও বেশি গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গুতেরেস বলেন, ‘আমরা যা জানি তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক, বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে দিনের পর দিন তাপপ্রবাহ ক্রমবর্ধমান হারে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।’

চরম তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ গ্রিড, পরিবহন ব্যবস্থা এবং খাদ্য সরবরাহের ওপর চাপ পড়ছে। এতে কোটি কোটি শ্রমিক বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুতেরেস চারটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, চরম তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা উন্নত করা, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা সহ্য করার মতো শহর ও অবকাঠামো তৈরি করা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বৈশ্বিক রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা।

অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমরা সংকট বাড়ানোর পেছনে অনেক বেশি সরকারি অর্থ ব্যয় করছি এবং মানুষকে তা থেকে রক্ষা করতে খুব কম ব্যয় করছি।’ তিনি কয়লা, তেল ও গ্যাসের অব্যাহত বিনিয়োগের সমালোচনা করে সতর্ক করেন যে, বর্তমানে অনুমোদিত প্রতিটি নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প ভবিষ্যতের তাপপ্রবাহকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে। তিনি বলেন, ‘মহড়া শেষ হয়ে গেছে। মূল ঘটনার জন্য অপেক্ষা করার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.