আপনি পড়ছেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে সাধারণ নির্বাচনের প্রচার শুরু করে তিনি এই কথা বলেন। বুধবার তিনি জানান, ভোটাররা রাজনৈতিক অপমানের চেয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বেশি চিন্তিত।

ট্রাম্পের সমালোচনা উড়িয়ে দিলেন মিশিগানের আব্দুল এল-সায়্যেদ
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করা ভোটিং বুথ

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্বে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন এল-সায়েদ। এরপরই তিনি তাকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের বারবার করা আক্রমণের জবাব দেন। ট্রাম্প তাকে ‘চরম বামপন্থি সমাজতান্ত্রিক’ এবং ‘কমিউনিস্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে আমার কথার দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই। আমি রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব দূর করতে চাই, আপনাদের পকেটে টাকা রাখতে চাই এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি এমন একজন মানুষ যিনি আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন না। আমাদের সমস্যা সমাধানের চেয়ে তিনি আমার নামকে ভিন্নভাবে উচ্চারণ করতে বা আমাকে চমৎকার ভদ্রলোক বলতে বেশি আগ্রহী।’

এল-সায়েদ জানান, তার প্রচারণার মূল লক্ষ্য হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো, স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো এবং মিশিগানের আবাসন সংকটের সমাধান করা। কংগ্রেসে থাকাকালীন ওষুধ শিল্পের কাছ থেকে ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ায় তিনি সাবেক কংগ্রেসম্যান রজার্সের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমরা এমন একটি আমেরিকার ধারণা গ্রহণ করতে পারি যেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় সাধ্যের মধ্যে থাকবে, কারণ মিশিগানের মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে।’

ইসরায়েলকে সামরিক তহবিল দেওয়ার বিষয়ে তার অবস্থান জানতে চাওয়া হলে এল-সায়েদ জানান, তিনি যেকোনো দেশের জন্য শর্তহীন সামরিক সহায়তার বিরোধী। এর মধ্যে ইসরায়েল, মিশর, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে অর্থায়ন করতে চাই না যারা গণহত্যা বা বর্ণবাদ চালায়, অথবা আমাদের এমন কোনো যুদ্ধে নিয়ে যায় যা আমাদের করার প্রয়োজন নেই।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ দেশের ভেতরে স্বাস্থ্যসেবা, স্কুল এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত।

ইসরায়েলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অর্থায়নের বিষয়ে এল-সায়েদ বলেন, ‘আমি এর ঘোর বিরোধী। আমি বুঝতে পারি না কেন মানুষ মনে করে যে আমাদের করের টাকা বিদেশি সামরিক বাহিনীর জন্য পাঠানো ঠিক, যেখানে আমাদের নিজেদের শিশুরাই ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না।’

২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে ৩৩০ কোটি ডলারের বিদেশি সামরিক সহায়তা দেয়। এর পাশাপাশি আয়রন ডোমসহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য আরও ৫০ কোটি ডলার দেওয়া হয়।

মিশর বছরে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পায়। অন্যদিকে স্নায়ুযুদ্ধ আমলের তুলনায় পাকিস্তানের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি কোনো মার্কিন সামরিক সহায়তা পায় না।

মঙ্গলবারের প্রাথমিক বাছাইপর্বে স্টিভেন্সকে প্রায় এক শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হারান এল-সায়েদ। আগামী নভেম্বরে তিনি রজার্সের মুখোমুখি হবেন। ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আশায় এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে এই লড়াই অনুষ্ঠিত হবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.