প্রধানমন্ত্রী: বিএনপির পরিকল্পনা সবসময়ই জনবান্ধব
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
বিএনপির সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমান সরকারের ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচির সঙ্গে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মৌলিক উদ্দেশ্যের বড় ধরনের মিল রয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, এসডিজির অন্যতম মূলনীতি হলো ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ বর্তমান সরকারের নীতিতেও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমডিজি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এসডিজির লক্ষ্যগুলোও বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের শাসন ও অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশ ঋণ ও আমদানিনির্ভর একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হওয়া দুর্বলতা কাটিয়ে এখন দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে।
দেশ পুনর্গঠনের এ প্রক্রিয়ায় এসডিজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভে’ দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এসডিজি বাস্তবায়ন ও স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের অর্জন ধরে রাখতে সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’ এই তিন ধাপের কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন—সবকিছু একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। এর মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থে কৃষক কার্ড এবং সহজে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু করা হয়েছে।
এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবার, প্রান্তিক কৃষক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি আর্থিক সহায়তা, কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ক্রীড়া কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের মেয়াদকালে পর্যায়ক্রমে দেশের সম্ভাব্য সব নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এসডিজি স্থানীয়করণের পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে দেশের তিনটি গ্রামকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। গ্রামগুলো হলো—রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।
এসব গ্রামে একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ, স্কুলের পোশাক, মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রামীণ পর্যটন, এক গ্রাম এক পণ্য, বৃক্ষরোপণ ও খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষণের পর সফল মডেলগুলো দেশের অন্যান্য গ্রামেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘এসডিজি ভিলেজ’ সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উন্নয়ন মডেলে রূপ দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে।
এসডিজির লক্ষ্য অর্জন কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিন দিনের জাতীয় সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো নিজেদের অগ্রগতি, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র। যেখানে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নাগরিক অধিকার সবার জন্য নিশ্চিত করা হবে এবং প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবাইকে দৃঢ়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন। পরে তিনি ‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.