ইসরায়েলি বিধিনিষেধ ও হামলার মুখে পশ্চিম তীরের খ্রিস্টানপ্রধান গ্রাম তাইবেহ
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অধিকৃত পশ্চিম তীরের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত ফিলিস্তিনি শহর তাইবেহ এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিধিনিষেধ এবং দখলদারদের অব্যাহত হামলার মুখে পড়েছে। নিজেদের জমি, বসতবাড়ি ও আয়ের উৎসের ওপর প্রতিনিয়ত হামলার কারণে সেখানে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা চরম চাপের মুখে রয়েছেন। গত ৯ আগস্ট ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শহরটিকে ‘বদ্ধ সামরিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

তাইবেহ অন্যতম প্রধান খ্রিষ্টান অধ্যুষিত ফিলিস্তিনি শহর। এখানে বেশ কয়েকটি গির্জার পাশাপাশি ধর্মীয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। এছাড়া এখানকার অনেক বাসিন্দার আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ও পর্যটন।
তাইবেহ শহরের ল্যাটিন গির্জার যাজক ফাদার বাশার ফাওয়াদলেহ আনাদোলুকে জানান, গত কয়েক মাস ধরে দখলদাররা শহরের বাসিন্দা, বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ওপর বারবার হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হামলার অংশ হিসেবে কৃষিজমি ধ্বংস করা হয়েছে এবং শহরের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে দখলদারদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।’
ফাদার বাশার আরও জানান, এই বিধিনিষেধের কারণে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত বাসিন্দাদের আয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক পরিবার ও তরুণ দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘গত তিন বছরে ১৫টির বেশি পরিবার তাইবেহ ছেড়ে চলে গেছে।’
অব্যাহত দেশত্যাগ পশ্চিম তীর, জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের উপস্থিতির জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এত কিছুর পরও স্থানীয়রা উন্নত ভবিষ্যতের আশা করছেন এবং নিজেদের ভূমিতে টিকে থাকতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে তিনি জানান।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অবরোধের বিষয়ে ফাদার বাশার জানান, এই সামরিক নির্দেশ ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে বা স্থানীয় বাসিন্দা এবং আশপাশের এলাকার ওপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।’
এই নির্দেশনার প্রভাব রামাল্লার পূর্বে অবস্থিত রাম্মুন ও দেইর জারির শহরের মধ্যবর্তী এলাকার ওপরও পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তাইবেহ সংলগ্ন একটি বেদুইন সম্প্রদায়ের ফিলিস্তিনি বাসিন্দা নায়েফ কাবনেহ আনাদোলুকে জানান, দখলদারদের হামলা দীর্ঘদিন ধরে চললেও সম্প্রতি তা বহুগুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘কৃষিজমিতে অনুপ্রবেশ করে ফসল ও স্থানীয়দের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হচ্ছে।’
আঙ্গুর বাগানসহ তার নিজের জমির ফসল নষ্ট করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো হামলা নয়, বরং এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের উপস্থিতি বাড়ানোর একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা।
ফিলিস্তিনি বাসিন্দা উম্মে আদি জানান, ২০২৩ সালে এক দখলদার ওই এলাকায় গবাদিপশু চরাতে আসার পর থেকে তার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে এবং এরপর সেখানে দখলদারদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, ‘বারবার হামলার কারণে জনজীবনে আতঙ্ক ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।’
তিনি এখন দীর্ঘ সময়ের জন্য নিজের বাড়ি ছেড়ে যেতে ভয় পান বলে উল্লেখ করেন। উম্মে আদি আরও জানান, দখলদাররা ফিলিস্তিনিদের জমিতে তাদের গবাদিপশু নিয়ে আসে এবং দখলদারদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে কোনো চাপই তাকে নিজের জমি ছাড়তে বাধ্য করতে পারবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আর কোনো জায়গা নেই। ভয়, চাপ এবং ইসরায়েলি দখলদারদের হামলার পরও আমরা নিজেদের ভূমিতেই থাকব।’
উম্মে আদি জানান, ফিলিস্তিনিদের সমর্থন জানাতে আগে শান্তি কর্মীরা ওই এলাকায় আসতেন, কিন্তু অবরোধের নির্দেশের পর তাদের আসা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘দখলদাররা অনেক সমর্থককে এই এলাকায় আসতে বাধা দিচ্ছে এবং পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে কর্মীরাও আটক হওয়ার ভয় পাচ্ছেন।’
মৈশিলা আলফোনসো নামের এক বিদেশি কর্মী আনাদোলুকে জানান, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমিতে টিকে থাকার লড়াইয়ে সমর্থন জোগাতে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য তাইবেহ এসেছেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তা প্রদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে ওই এলাকার ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তির ওপর ইসরায়েলি দখলদারদের হামলার মাত্রা বৃদ্ধির মধ্যেই তাইবেহ শহর থেকে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ফিলিস্তিনি কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ফিলিস্তিনি এবং তাদের সম্পত্তির ওপর ৩ হাজার ৪৮৮টি হামলা চালিয়েছে দখলদাররা।
এসব হামলার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, বসতবাড়ি ও যানবাহন ভাঙচুর, গাছ উপড়ে ফেলা, কৃষিজমি ধ্বংস করা, কৃষকদের তাদের জমিতে যেতে বাধা দেওয়া, নতুন বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করার মতো ঘটনা রয়েছে। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরজুড়ে ১৯৪টি বসতি এবং ৪০০টি আউটপোস্টে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.