লেবানিজ বাবা: ছেলে ঘরে ফেরায় জীবন ফিরে পেয়েছি
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ছেলে হুসেইন ঘরে ফেরায় নিজের জীবন ফিরে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন লেবাননের এক বাবা। দীর্ঘ কয়েক মাসের অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের হারুফ শহরে নিজের পরিবারের কাছে পৌঁছান হুসেইন আইয়াশ।

আনাদোলুকে আবদুল্লাহ আইয়াশ বলেন, ‘সন্তানকে হারানোর পর তাকে ফিরে পেলে একজন বাবার যেমন অনুভূতি হয়, আমারও ঠিক তেমনই লাগছে। আমার জীবন যেন ফিরে এসেছে।’
ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে তাকে আর জীবিত দেখার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কয়েক মাস পর ২৭ জুন নাবাতিয়েহ জেলার হারুফের বাসিন্দা হুসেইন আইয়াশকে আটক করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
তার বাবা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে নির্যাতন, অপমান এবং অবমাননাকর আচরণের শিকার হতে হয়েছিল বলে মুক্তির পর হুসেইন তাকে জানিয়েছেন।
ছেলের ফিরে আসার আনন্দ এবং দীর্ঘ বন্দিজীবনের মানসিক ক্ষতের মাঝে আবদুল্লাহ আইয়াশ বলেন, তার ছেলের এখন মানসিক শান্তি ও বিশ্রাম প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের এখন মানসিক বিশ্রাম দরকার। আমি তাকে শুধু এটুকুই বলি, নিজের জীবনকে এগিয়ে নাও। এটাই জীবন।’
রাস নাকুরা সীমান্ত ক্রসিংয়ে শুক্রবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে হুসেইন আইয়াশ ছাড়াও লেবাননের নাগরিক আলী শোর এবং দুই সিরীয় নাগরিক আসাদ হসেইকি ও উইসাম সামাউইকে হস্তান্তর করে ইসরায়েল।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও চিকিৎসাপরীক্ষা সম্পন্ন করার পর হারুফে নিজের বাড়িতে ফেরেন আইয়াশ। অন্যদিকে শোর দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরে তার বাড়িতে যান।
এর আগে প্রায় ১১ মাস আটকে রাখার পর বৃহস্পতিবার মালেক কামাল রাজি নামে আরেক লেবাননি বন্দিকে মুক্তি দিয়ে নাকুরা ক্রসিংয়ে রেড ক্রসের মাধ্যমে লেবানন সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে ইসরায়েল। পরদিন বাকি চারজনকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে বলা হয়, তদন্তে দেখা গেছে এই পাঁচজন কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য নন, তারা কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না এবং তাদের আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
এর মাধ্যমে তেল আবিব কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে যে, কোনো সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বা সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও এই ব্যক্তিদের কয়েক মাস ধরে—এমনকি কারো কারো ক্ষেত্রে প্রায় এক বছর—বিনা কারণে আটকে রাখা হয়েছিল।
লেবাননের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নথিবদ্ধ তথ্যে দেখা গেছে, এই পাঁচজনের ঘটনা একটি ব্যাপক পরিস্থিতির অংশ মাত্র।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি আইনি নথিতে লেবাননের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বেসামরিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকা অবস্থায় লেবাননি নাগরিকদের আটক বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে।
ইসরায়েল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ নাবিহ আওয়াদার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তিন লেবাননি নাগরিক মুক্তির আগে লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল ইসরায়েল ৩৬ জন অপহৃতকে আটকে রেখেছে, যদিও তেল আবিব ৩৩ জনকে আটকের কথা স্বীকার করে।
আওয়াদা এর আগে আনাদোলুকে জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর নিজেদের গ্রামে ফেরার চেষ্টা করার সময় ২১ জনকে আটক করা হয়েছিল।
ইসরায়েলি ভূখণ্ডের বদলে লেবাননের ভেতর থেকে আটক করা বেসামরিক নাগরিকদের বন্দি বিনিময় চুক্তির যুদ্ধবন্দি না বলে ‘অপহৃত’ হিসেবে গণ্য করে লেবানন। কারণ লেবাননের হাতে কোনো ইসরায়েলি বন্দি নেই।
লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৫৪ জন নিহত ও ১২ হাজার ৩২৫ জন আহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.