আপনি পড়ছেন

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। এই ফল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীলদের জন্য বড় ধাক্কা। তবে এই ফলাফলের ভিত্তিতে দলটি সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। খবর রয়টার্সের

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে এএফডির ঐতিহাসিক জয়
এএফডির নেতাদের উচ্ছ্বাস। ছবি- রয়টার্সের

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বুথফেরত জরিপের ফল অনুযায়ী, এএফডি পেয়েছে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটি পেয়েছিল ২০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে মের্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) এবার পেয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালে দলটির ভোট ছিল ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ। ২০০২ সাল থেকে স্যাক্সনি-আনহাল্ট শাসন করে আসা রক্ষণশীলদের জন্য এটি বড় ধরনের বিপর্যয়।

বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলই এএফডির নেতৃত্বাধীন কোনো জোটে যোগ না দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে সরকার গঠন করে ক্ষমতায় যেতে হলে এএফডির সম্ভবত রাজ্য সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। রাজ্য এএফডির জনপ্রিয় নেতা উলরিশ জিগমুন্ড এ ফলাফলকে ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব তারা সরকার পরিচালনার কাজ শুরু করতে চান।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে কট্টর ডানপন্থী দল এর আগে সরকার গঠন করতে পারেনি। রাজ্য সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে এএফডির হাতে পুলিশ, স্থানীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্ষমতা চলে আসবে।

স্যাক্সনি-আনহাল্টে মাত্র ২১ লাখ মানুষের বসবাস। রাজ্যটিতে এএফডিকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘কট্টর ডানপন্থী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। তবে ৩৫ বছর বয়সী জিগমুন্ড এই শ্রেণিবিন্যাস প্রত্যাখ্যান করেছেন।

দলের জাতীয় পর্যায়ের দুই শীর্ষ নেতা অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপাল্লার সঙ্গে জিগমুন্ডও ফলাফলে উচ্ছ্বসিত। বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২০২১ সালের নির্বাচনে পাওয়া ভোটের দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেতে যাচ্ছে দলটি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এ ফলাফলকে জার্মান রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল এবং অতীতের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দেশটির প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল দাস এরস্টে পর্যন্ত তাদের জনপ্রিয় অপরাধবিষয়ক ধারাবাহিক ‘টাটঅর্ট’-এর সম্প্রচার বাতিল করে নির্বাচনের ফলাফলের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করেছে।

সমর্থকদের উদ্দেশে জিগমুন্ড বলেন, ‘এটি শুধু স্যাক্সনি-আনহাল্টের বিষয় নয়। এটি পুরো জার্মানির জন্য একটি সংকেত- আত্মবিশ্বাসী একটি সংকেত।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জার্মান টেলিভিশনে প্রচারিত নির্বাচনী ফলাফলের একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। পরে রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের ওই পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে ‘বাস্তববাদী এএফডির ঐতিহাসিক জয়’ বলে প্রশংসা করেন।

এর আগে দিমিত্রিয়েভ রাশিয়াপন্থী হিসেবে পরিচিত এএফডিকে ‘জার্মানির জন্য আশা, যুক্তি, সহযোগিতা, সত্য ও আশার দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। গত বছর জার্মানির জাতীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এএফডির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। জার্মানিতে তাঁর এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছিল।

তবে পোল্যান্ডের মধ্য-ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ফলাফলটিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পোল্যান্ডে শুধু বোকা ও বিশ্বাসঘাতকরাই এএফডির বিজয়ে আনন্দিত হতে পারে।’

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মতো পর্যাপ্ত আসন না থাকায় জিগমুন্ড এখন পর্যন্ত সংখ্যালঘু সরকার গঠনের নেতৃত্ব দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। যদিও দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতারা এমন সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করছেন।

জিগমুন্ড বলেন, ‘প্রয়োজনে আবার নির্বাচন হবে। তখন আমরা ৫০ বা ৫৫ শতাংশ ভোট পাব।’ তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা বা কোনো দলের সঙ্গে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্পষ্ট ছিল না, বিএসডব্লিউ নামের দলটি রাজ্য সংসদে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোট পাবে কি না। তবে অন্তর্বর্তী ফলাফলে দেখা যায়, দলটি সেই সীমা অতিক্রম করেছে। বিএসডব্লিউ ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে এএফডির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যেত।

৮৩ আসনের রাজ্য সংসদে এএফডি বর্তমানে ৩৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৪২টি আসন। এএফডির নির্বাচনী রাতের প্রধান কার্যালয়ে ফলাফলের পূর্বাভাস পর্দায় ভেসে উঠতেই সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস শুরু হয়।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.