আপনি পড়ছেন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আইনি সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

হাসিনার আপিলের সময় শেষ, সম্পদ বাজেয়াপ্তে প্রক্রিয়া চূড়ান্তের অপেক্ষা
মো. আমিনুল ইসলাম

তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। পলাতক আসামি হোক বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপিল না করলে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। এ সময় তিনি শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া এবং সদ্য পাস হওয়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬’ নিয়েও বিস্তারিত জানান।

শেখ হাসিনা ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিলের প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের আইনের ২১(৩) ধারায় রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না হলে পরে সেটি গ্রহণের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আসামি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন—আপিলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা সবার জন্য একই। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করেননি। তার করা আপিলও আদালত এখনো গ্রহণ করেনি। ফলে এ বিষয়ে বর্তমানে কোনো বিচারিক কার্যক্রম চলমান নেই বলে জানান তিনি।

সাজা স্থগিতের বিষয়ে সরকারের ক্ষমতা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ৩০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে গেলে রায় কার্যকরের বিষয়টি সামনে আসে। তবে সরকার চাইলে সাজা স্থগিত করার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। এটি সরকারের নিজস্ব এখতিয়ার এবং কোনো ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে কি না, সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে কীভাবে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তা সাধারণ আইনে নির্ধারিত।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে বিচারকদের সামনে সুস্পষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর তা আগের দেওয়া রায়ের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ এর মাধ্যমে আগে দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে। এতে আইনগত কোনো জটিলতা থাকবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সদ্য পাস হওয়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬’ কে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নতুন আইনের ফলে গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও সুগম হবে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে আইনটি সংশোধিত আকারে পাস করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন আইনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যক্তিকে আটক করার পর ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় অজ্ঞাত স্থানে গোপন রাখে এবং তাকে আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে সেটি ‘গুম’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আর কোনো গুমের ঘটনা যদি ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়, তাহলে সেটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা যাবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ আদালতে কোনো গুমের মামলার বিচার চলার সময় যদি দেখা যায় যে ঘটনাটি ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য, তাহলে সংশ্লিষ্ট আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে পারবে। ট্রাইব্যুনালে আসা অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে যাচাই-বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.