আপনি পড়ছেন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রেকর্ড রাখার পর থেকে গত আগস্ট ছিল যৌথভাবে সবচেয়ে উষ্ণ মাস। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের সঙ্গে সমান উষ্ণতার রেকর্ড গড়েছে মাসটি। খবর বিবিসির

যৌথভাবে সবচেয়ে উষ্ণতম মাস ছিল আগস্ট
তীব্র গরম উপেক্ষা করে রোমে ঘুরছেন পর্যটকেরা। ছবি- বিবিসি

এই রেকর্ড তাপমাত্রার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি এল নিনোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবও ভূমিকা রেখেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বেড়েছে।

আগস্টে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে দেশগুলো যে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা ধরে রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল, আগস্টের তাপমাত্রা সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

তবে এক মাসের তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়া মানেই এই সীমা স্থায়ীভাবে অতিক্রম করা নয়। কিন্তু এটি ওই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার দিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রার প্রবণতা এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগস্ট ছিল পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্মেরও শেষ মাস। এ সময়ের উচ্চ তাপমাত্রা ২০০৩ সালের প্রাণঘাতী গ্রীষ্মের তীব্রতাকেও ছাড়িয়ে যায়।

ইইউর জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের জলবায়ুবিষয়ক কৌশলগত প্রধান ড. সামান্থা বার্গেস আগস্টকে ‘বিশ্বের জলবায়ুর ইতিহাসে অসাধারণ একটি মাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও প্রতিবেশব্যবস্থায় ক্রমেই বেশি অনুভূত হচ্ছে।

রেকর্ড বায়ু তাপমাত্রা, রেকর্ড সমুদ্রের উষ্ণতা এবং ইউরোপের অস্বাভাবিক উষ্ণ গ্রীষ্ম—এই তিনটি বিষয়ই দেখিয়ে দিচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন এখন বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগর—উভয় ক্ষেত্রেই চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করছে।

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, আগস্টের এই রেকর্ড জলবায়ুর ওপর মানবজাতির প্রভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। প্রমাণ অখণ্ডনীয়। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর মানবজাতির নির্ভরতার ক্রমবর্ধমান মূল্যই এর পেছনে রয়েছে এবং এর ফলেই বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

গবেষকেরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের পাশাপাশি শক্তিশালী এল নিনোর আবির্ভাব পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলের একটি বিস্তীর্ণ অংশ অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে সমুদ্রে সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় এক বছর ধরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।

কোপার্নিকাসের গবেষকদের মতে, বর্তমানে চলমান এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং এটি রেকর্ডের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে।

এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রায় সবচেয়ে বড় প্রভাব আগামী এক বছরে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার বর্তমান ধারার আরও অবনতি হতে পারে। এমন আশঙ্কার মধ্যেই পশ্চিম ইউরোপ ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্ম পার করেছে।

যুক্তরাজ্যেও একই চিত্র দেখা গেছে। ১৮৮৪ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর দেশটিতে এবার সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম ছিল। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন উষ্ণ গ্রীষ্মের সম্ভাবনা প্রায় ১৩০ গুণ বেড়েছে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের চরম আবহাওয়া বিষয়ক গবেষক ড. ক্লেয়ার বার্নস বলেন, এই পরিসংখ্যানের ‘খুবই বাস্তব মানবিক মূল্য’ রয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপজুড়ে তীব্র গরমের কারণে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে, খাদ্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দাবানল ও খরা আরও তীব্র হয়েছে। এতে দশ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

তবে এমন উষ্ণ গ্রীষ্মকে এখন কেবল ‘নতুন স্বাভাবিক’ হিসেবে মেনে নেওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন বার্নস। তিনি বলেন, যত দিন আমরা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো বন্ধ না করব, তত দিন এসব রেকর্ড ভাঙতেই থাকবে এবং চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি আমাদের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার চেয়েও দ্রুত খারাপ হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিস্থিতি কতটা খারাপ হবে—সেই সিদ্ধান্ত এখনো আমাদের হাতেই রয়েছে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.