আপনি পড়ছেন

রামপাল, পায়রা ও বড়পুকুরিয়াসহ প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৭ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও জাতীয় গ্রিডে গড়ে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে সক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট কম উৎপাদন হওয়ায় গ্যাসের পর এবার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকেও কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ না পেয়ে তীব্র ঘাটতির মুখে পড়েছে জাতীয় গ্রিড।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়: উৎপাদন ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট
রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ সাতটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ যুক্ত হয়ে মোট কয়লাভিত্তিক সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের ওপরে। তবে যান্ত্রিক জটিলতায় অধিকাংশ বড় কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারছে না।

বাগেরহাটের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি কারিগরি গোলযোগের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। কেন্দ্রটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানান, বর্তমানে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ৬৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরতে আরও অন্তত তিন দিন সময় লাগতে পারে। এর আগে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ মিলছিল।

একই ধরনের বিপর্যয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটির ১ হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে প্রায় দুই মাস ধরে গড়ে মাত্র ৫৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সমপরিমাণ ১ হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরেক কেন্দ্র আরএনপিএল থেকেও পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এছাড়া দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটে ত্রুটি থাকায় ৪৪৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০৭ মেগাওয়াট।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১ হাজার ৪৩৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটির উৎপাদনেও ওঠানামা চলছে। সম্প্রতি কারিগরি ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নামলেও ত্রুটি সারিয়ে সর্বশেষ সেখান থেকে ১ হাজার ১৯৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে এসেছে। এর বিপরীতে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট এবং চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার থেকে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুরোদমে সরবরাহ করা হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য মতে, বিকাল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৪৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৮৬ মেগাওয়াট।

এদিকে দেশে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়ে দৈনিক ২ হাজার ৩৭৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ালেও জ্বালানি সংকট কাটেনি। পেট্রোবাংলার হিসাবে, গ্যাসভিত্তিক ৭২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪২টিতেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রগুলোর মোট চাহিদা ২ হাজার ৫২৮ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮৮১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ফলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ দক্ষতায় চালানো না যাওয়ায় এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে যান্ত্রিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত রয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.