আপনি পড়ছেন

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলে বসতি বেল্ট গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও কৃষি স্থাপনা ধ্বংস অভিযান শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থা এবং এক মেয়রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হেবরনের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত অবৈধ বসতি সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকেই হুমসা শহরে বুলডোজার দিয়ে এসব বাড়িঘর ও অস্থায়ী আবাসন গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ফিলিস্তিনিদের বাড়ি গুঁড়িয়ে ‘বসতি বলয়’ গড়ছে ইসরায়েল
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলি বুলডোজার

বেদুইন মানবাধিকার সংস্থা আল-বায়দার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই হুমসা শহরে বাড়িঘর ভাঙার কাজ শুরু করে ইসরায়েলি বুলডোজার। সংস্থাটি জানায়, ‘এই উচ্ছেদ অভিযান ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে, পারিবারিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং এটি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়, তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকার উৎসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বাড়ানোর একটি পরিকল্পিত নীতির অংশ।’

ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, ফিলিস্তিনিদের নগরায়ণ ও বিস্তার রোধ করতে এবং তাদের উচ্ছেদ করতেই ইসরায়েল এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, অনুমতি ছাড়া নির্মিত ভবনগুলোতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ফিলিস্তিনি, ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের খুব কমই ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়, অথচ পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রেখেছে।

হুমসা শহর অন্তর্ভুক্ত থাকা আল-কুম ও আল-মুওয়াররাক পৌরসভার মেয়র আহমদ রাজৌব বাড়িঘর ধ্বংসের এই দখলদার নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আনাদোলুকে বলেন, ‘গত তিন মাসে এই অঞ্চলে বসতি স্থাপনের তৎপরতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

১৯৬৭ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে দখলকৃত জমিতে নির্মিত সব ইসরায়েলি বসতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবৈধ বিবেচনা করলেও তেল আবিব তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমজুড়ে ১৫৬টি অবৈধ বসতি এবং ৩৬০টি আউটপোস্টে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি দখলদার বসবাস করছে এবং তারা ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার উদ্দেশ্যে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।

মেয়র আহমদ রাজৌব বলেন, ‘এই এলাকায় পশুপালনভিত্তিক বসতি আউটপোস্ট তৈরির চেষ্টা চালানো হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা তা প্রতিহত করেন। এরপরই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ভূমির মালিকদের নোটিশ পাঠিয়ে দাবি করে যে এগুলো তাদের রাষ্ট্রীয় জমি।’

তিনি জোর দিয়ে জানান, জমির মালিকদের কাছে অটোমান আমলের দলিলসহ নিজেদের মালিকানার যাবতীয় প্রমাণ রয়েছে। এমনকি ১৯৮৫ সালে একটি ইসরায়েলি আদালতের রায়ও এই জমির মালিকানা নিশ্চিত করেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী সকাল থেকে ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করে এলাকার কৃষি স্থাপনাগুলো ভাঙতে শুরু করে।’ এলাকাটিকে ‘এরিয়া সি’ হিসেবে চিহ্নিত করার অজুহাতে এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের নগরায়ণ ঠেকানোর নীতি হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।

১৯৯৫ সালের অসলো–২ চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিম তীরকে সাময়িকভাবে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল—এরিয়া এ, বি এবং সি। এরিয়া এ সম্পূর্ণ ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে এবং এরিয়া বি ফিলিস্তিনিদের বেসামরিক ও ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরদিকে পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত এরিয়া সি সম্পূর্ণ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রাজৌব বলেন, ‘উত্তর থেকে দক্ষিণ হেবরন পর্যন্ত একটি বসতি বেল্ট তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব ইসরায়েলি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এলাকাটি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়বে এবং পশ্চিমের গ্রামাঞ্চল দুরা শহর ও হেবরন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ক্ষতির পরিধি কেবল যে এলাকায় বাড়ি ভাঙা হচ্ছে সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শত শত দুনাম জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় জমির অজুহাত দেখিয়ে সেই সব জমির মালিকদেরও এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মেয়র সতর্ক করে জানান, ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নতুন আউটপোস্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলের, যা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে পুরোপুরি টুকরো টুকরো করে ফেলবে। তিনি ইসরায়েলি পদক্ষেপ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

২০২৩ সালে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নির্বিচার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমজুড়ে ফিলিস্তিনি এবং তাদের সম্পদের ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও দখলদারদের আক্রমণ বহুগুণ বেড়েছে। এসব হামলার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের হত্যা, গ্রেপ্তার, বাড়িঘর ও স্থাপনা ধ্বংস, মসজিদ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, কৃষি জমিতে বুলডোজার চালানো, কৃষকদের জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং ফিলিস্তিনি জমিতে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ।

ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব ইসরায়েলি পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পথ সুগম করা। এটি সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ প্রস্তাব অনুসারে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে সশস্ত্র জায়নবাদী দলগুলোর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড দখল করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় ব্যাপক গণহত্যার মাধ্যমে অন্তত সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তেল আবিব বাকি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডগুলোও দখল করে নেয় এবং সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.