বন্ধ কারখানার নামে কাপড় ঘোষণায় এলো ৫ কোটি টাকার ফোন
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে মিথ্যা ঘোষণায় আনা প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। নিট কাপড়ের চালান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে হংকং থেকে এসব ফোন আনা হয়েছিল। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে প্রকাশ, চট্টগ্রাম ইপিজেডের এক বছরেরও বেশি সময় আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে চালানটি খালাসের চেষ্টা করা হয়।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, চট্টগ্রাম ইপিজেডের অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা পুরোনো আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) জাল করে এই চালানে ব্যবহার করা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর চালানটি জব্দ করা হয়। এর আগে ৩১ আগস্ট হংকং এয়ার কার্গোর একটি ফ্লাইটে ৮৯৫ কেজি ওজনের চালানটি ঢাকায় পৌঁছায়। কাপড়ের রোলের ভেতর বিশেষভাবে তৈরি সিলিন্ডারে ফোনগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) এক নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চালানে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি, ১৫০টি রেডমি ১৫সি এবং ১ হাজার ৫৫টি পুরোনো আইফোন ও চীনা ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ছিল। এসব ফোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। চালানের প্রেরক হিসেবে চীনের ‘ঝেজিয়াং শাওশিং শিনহুয়া নিটিং কোম্পানি’, মাস্টার এয়ার ওয়েবিল ধারক হিসেবে ‘জাঙ্কো গ্লোবাল লজিস্টিকস’ এবং ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার হিসেবে ‘এফএফ কার্গো সার্ভিস’-এর নাম নথিভুক্ত ছিল। তবে ঢাকা কাস্টমস হাউস থিয়ানিস ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘ইউকে ডরিন’-এর বিরুদ্ধে মামলা করলেও চালান আনা ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার এফএফ কার্গো সার্ভিসকে আসামি করা হয়নি।
চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে থিয়ানিস অ্যাপারেলস বন্ধ হয়ে যায় এবং একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আইপি নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরবর্তীতে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ কোম্পানিটির ইজারা বাতিল করে সম্পদ নিলামে তোলে এবং কারখানা ভবনটি অন্য একটি কোম্পানিকে বরাদ্দ দেয়। শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘থিয়ানিস অ্যাপারেলসের কোনো অস্তিত্ব নেই।’ বন্ড সুবিধার আওতায় কোম্পানিটির বৈধভাবে নতুন পণ্য আমদানি করার কোনো সুযোগ ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিইপিজেডের আরেক কর্মকর্তা জানান, অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের পুরোনো দুটি আইপি জাল করে থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নামে এই চালান আনা হয়েছে; যেসব আইপির বিপরীতে আগেই পণ্য খালাস করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সম্ভবত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, যিনি এই তিন কোম্পানিরই কাস্টমস এজেন্ট হতে পারেন, তিনি এই আইপি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বের করবে আসলে কে চালানটি এনেছে এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত।’
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, কোম্পানিগুলোর পুরোনো আমদানি সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ডে প্রবেশাধিকার ছিল এমন ব্যক্তিরা এই চালানে সহায়তা করে থাকতে পারেন। অতীতে থিয়ানিসের এয়ার কার্গো খালাসের দায়িত্বে থাকা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ইউকে ডরিনও এখন নজরদারিতে রয়েছে। চালানের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইউকে ডরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ থিয়ানিসের ভুয়া লেটারহেড ব্যবহার করে খালাসের অনুমোদন দেন এবং পরবর্তীতে পণ্য সংগ্রহের জন্য রুহুল আমিনকে দায়িত্ব দেন। কাস্টমস নথিতে তানভীরকে থিয়ানিসের কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবেও দেখানো হয়েছে।
তবে তানভীর আহমেদ জানান, ইলিয়াস নামের থিয়ানিসের এক কর্মকর্তা তার কর্মচারীকে চালান খালাসের অনুমোদন দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে থিয়ানিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান খান জানান, ইলিয়াস ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে চলে যান এবং কারখানা বন্ধ হওয়ার পর থেকে থিয়ানিস কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। চালানের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে তিনি জানান, থিয়ানিসের কোনো কর্মকর্তা ইউকে ডরিনকে খালাসের নথিপত্র দেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউকে ডরিন পূর্বে থিয়ানিসের বিমানবন্দর কার্গো খালাসের কাজ করলেও কোম্পানির আইপি বন্ধ থাকার কারণে প্রায় এক বছর ধরে তাদের সঙ্গে কোনো কাজ ছিল না। তিনি জানান, বেপজার সঙ্গে থিয়ানিসের বেশ কিছু বিরোধ চলছে এবং সম্পদ নিলামের পর কারখানার ভেতর থাকা ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত নথিপত্রে তার কোনো প্রবেশাধিকার ছিল না।
এদিকে এফএফ কার্গো সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিআইআইডির কর্মকর্তারা জানান, ফাঁকি দেওয়া শুল্ক ও করের পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। ফোনের মডেল, অবস্থা, আইএমইআই নম্বর, ঘোষিত আমদানি মূল্য এবং বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে। সিআইআইডির মহাপরিচালক সফিউর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এনবিআরের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এনবিআরের মুখপাত্র আল আমিন জানান, ভুয়া আইপি নথি ব্যবহার ও চোরাচালানের অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। আল আমিন বলেন, ‘২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর থানায় ২৪ নম্বর মামলা হিসেবে এটি নথিভুক্ত করা হয়। প্রযোজ্য আইনের আওতায় অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন কীভাবে পুরোনো আইপি ও থিয়ানিসের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে, কারা এই চালানের নেপথ্যে ছিল এবং কীভাবে ফোনগুলো স্থানীয় বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
টিবিএস অবলম্বনে
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.