আপনি পড়ছেন

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। কূপটি থেকে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।

তিতাসে নতুন কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে, আসছে আরও তিন কূপ
গ্যাস

শনিবার দুপুরে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের নতুন এই কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিতাসের ২৯ নম্বর কূপও শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকেও গ্যাস সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনটি কূপ থেকে দৈনিক মোট ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাধীন তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে ২৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তোলনের কারণে বিদ্যমান কূপগুলোর চাপ ও মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদনও ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন গ্যাসের উৎসের সন্ধানে ২০১২ সালে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ‘সি’ লোকেশনে জরিপ চালায় বিজিএফসিএল। ২০২০ সালে ওই জরিপের ফল পর্যালোচনা করে নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খনন শুরু হয়। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতার কূপটির খনন শেষ হয় চলতি বছরের ২৭ মে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি কূপটির খননকাজ করে। পরে ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়।

এদিকে একই ‘সি’ লোকেশনে তিতাস ২৯ নম্বর কূপের খননও শেষ হয়েছে। বর্তমানে কূপটির অন্যান্য কারিগরি কাজ চলছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতার কূপটির খনন শুরু হয়েছিল গত ২০ জুলাই। আগামী এক মাসের মধ্যে সেখান থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

তিতাস ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না বলেন, ২৮ নম্বর কূপ থেকে আপাতত প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে। ২৯ নম্বর কূপ থেকেও ভালো চাপ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সেখান থেকে পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

তিনি জানান, ‘সি’ লোকেশনে তিতাস ৩০ নম্বর কূপের খননকাজ আগামী দেড় মাসের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটির গভীরতা হবে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মিটার এবং খনন শেষ করতে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় তিতাস ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজও এগিয়ে চলছে। প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতার এই কূপটি দেশের প্রথম এবং সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে খনন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্ন হয়েছে।

তিতাস ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদুল নবাব বলেন, কূপটি একই সঙ্গে উচ্চচাপ ও উচ্চতাপসম্পন্ন। বড় ধরনের কোনো জটিলতা দেখা না দিলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এ কূপ থেকেও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিতাস ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট করে মোট ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা করছেন তারা।

তিনি বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় এই পরিমাণ গ্যাস খুব বেশি না হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশীয় উৎস থেকে অতিরিক্ত গ্যাস পাওয়া গেলে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সেই পরিকল্পনারই অংশ। এ ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে সহায়তা করবে।

প্রতিমন্ত্রীর আশা, তিতাসের নতুন কূপগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ার ফলে গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি ফিরবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি হবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.