সার্বভৌম সমতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি উত্তর সাইপ্রাসের
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সার্বভৌম সমতার জন্মগত অধিকার এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমান মর্যাদার স্বীকৃতি দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তার্কিশ রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাস (টিআরএনসি)। সাইপ্রাস সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি দেওয়া আবশ্যক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রবিবার এক লিখিত বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায় অঞ্চলটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

টিআরএনসির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাইপ্রাস ইস্যুতে টিআরএনসি এবং তুরস্কের আনুষ্ঠানিক নীতি সার্বভৌম সমতা ও আন্তর্জাতিকভাবে সমান মর্যাদার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই দ্বীপে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই টিআরএনসির সমান মর্যাদা স্বীকার করে নিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মৌলিক বাস্তবতা হলো এই দ্বীপে পাশাপাশি দুটি পৃথক জাতি এবং দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র বসবাস করছে। এই বাস্তবতাগুলোকে উপেক্ষা করে নেওয়া যেকোনো নীতি ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হতে বাধ্য।’
সমগ্র দ্বীপ জুড়ে একটি কাল্পনিক রাষ্ট্রের অধীনে তুর্কি ও গ্রিক সাইপ্রাসবাসীদের মধ্যে ‘ঘূর্ণায়মান প্রেসিডেন্সি’ বা পালাক্রমিক রাষ্ট্রপতিত্বের প্রস্তাবের বিষয়ে মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যদিও এই বিষয়টি বহু দশক ধরে আলোচনার মডেলের একটি অংশ ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসনের চরমপন্থী ও আপসহীন অবস্থানের কারণে সেই মডেলটি ব্যর্থ হয়েছে। তারা টিআরএনসির সমান মর্যাদা স্বীকার করতে অস্বীকার করেছে এবং শাসনব্যবস্থা ও সম্পদের অংশীদারিত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে। অধিকন্তু, এই ধারণাটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রের অধীনে শাসন ব্যবস্থার কথা বলে এবং এমন একটি নীতির প্রতিনিধিত্ব করে যা সার্বভৌম সমতা ও সমান আন্তর্জাতিক মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া টিআরএনসির অবস্থানের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ।’
বিবৃতিতে আবারও টিআরএনসির সার্বভৌম সমতা ও সমান আন্তর্জাতিক মর্যাদার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করার দাবি জানানো হয় এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়।
একই সঙ্গে বিবৃতিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তুর্কি সাইপ্রাসবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত দুটি আসনের প্রসঙ্গে বলা হয়, ‘একইভাবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তুর্কি সাইপ্রাসবাসীদের জন্য বরাদ্দ করা দুটি আসনের অধিকারের কথা উল্লেখ করা এবং সেই আসনগুলো দাবি করার চেষ্টা করার অর্থ তথাকথিত “সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র”-এর মর্যাদা মেনে নেওয়া। অথচ এতে তুর্কি সাইপ্রাসবাসীরা অংশও নেয় না বা তাদের কোনো প্রতিনিধিত্বও নেই। উপরন্তু, ১৯৬৩ সালে বলপ্রয়োগ করে গ্রিক সাইপ্রাস পক্ষ এই প্রতিষ্ঠানের দখল নিয়েছিল। ফলে সেই আসন চাওয়া মানে ওই মর্যাদার ভিত্তিতে তাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদকেও মেনে নেওয়া।’
বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, ‘এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি যেমন মেনে নেওয়া যায় না, তেমনি এই উদ্দেশ্যে নেওয়া কোনো উদ্যোগে তুর্কি সাইপ্রাসের জনগণ সমর্থন জানাবে—এমন প্রত্যাশাও করা উচিত নয়।’
উল্লেখ্য, ২০০৪ সাল থেকে গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে অবৈধভাবে সমগ্র দ্বীপের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে আসছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে একটি সামগ্রিক সমাধানের জন্য ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও কয়েক দশক ধরে গ্রিক সাইপ্রাসবাসী এবং তুর্কি সাইপ্রাসবাসীদের মধ্যকার বিরোধে সাইপ্রাস সমস্যা জর্জরিত হয়ে রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে শুরু হওয়া জাতিগত হামলার মুখে তুর্কি সাইপ্রাসবাসীরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল।
পরবর্তীকালে ১৯৭৪ সালে গ্রিসের সঙ্গে দ্বীপটিকে সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে গ্রিক সাইপ্রাসবাসী একটি অভ্যুত্থান ঘটায়। তখন নিপীড়ন ও সহিংসতা থেকে তুর্কি সাইপ্রাসবাসীদের রক্ষা করার জন্য একটি জামিনদার শক্তি হিসেবে তুরস্ক সামরিক হস্তক্ষেপ করে। এর ফলশ্রুতিতে ১৯৮৩ সালে টিআরএনসি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিরোধ নিরসনে থেমে থেমে শান্তি প্রক্রিয়া চলতে দেখা গেছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে জামিনদার দেশ তুরস্ক, গ্রিস এবং যুক্তরাজ্যের পৃষ্ঠপোষকতায় সুইজারল্যান্ডে একটি শান্তি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পরবর্তীতে গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসন ২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়, যে একই বছরে দীর্ঘদিনের এই বিরোধ অবসানে নেওয়া জাতিসংঘের একটি পরিকল্পনা একতরফাভাবে আটকে দিয়েছিল গ্রিক সাইপ্রাস।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.