আপনি পড়ছেন

দেশের ২৬ লাখের বেশি চাকরিপ্রত্যাশীর কর্মসংস্থান এবং সরকারি দপ্তরের জনবল সংকট নিরসনে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণের কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর কাছে অনুমোদিত শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য এবং চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগো

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখের বেশি। এর বাইরে একটি বড় অংশ শ্রমবাজারে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থানের অভাবে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি খাতের এই বড় নিয়োগ কার্যক্রম চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রতিবছর শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়া বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিতে শুধু সরকারি খাত যথেষ্ট নয়; সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের 'সরকারি কর্মচারীদের পরিসংখ্যান-২০২৫' অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত মোট ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন। ফলে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ১ হাজার ১৫২টি শূন্য পদ রয়েছে সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তর ও দপ্তরে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৮৪টি, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৪ হাজার ৫৭৮টি এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ৬ হাজার ৮০৮টি পদ খালি রয়েছে।

গ্রেডভিত্তিক পরিসংখ্যানে ২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ২১৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ১৬তম গ্রেডে ৭৯ হাজার ৮৬৮টি, দশম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৪১৩টি, ১১তম গ্রেডে ৫২ হাজার ৬২৪টি এবং বিসিএসের আওতাভুক্ত নবম গ্রেডে ৪৯ হাজার ৯৮৪টি পদ খালি আছে। অন্যান্য পদের মধ্যে ১৩তম গ্রেডে ৪২ হাজার ৩৫টি, ১৪তম গ্রেডে ৩০ হাজার ৫০৫টি, ১৫তম গ্রেডে ২৭ হাজার ১৩৪টি, ১৯তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৮৭৯টি এবং ১৭তম গ্রেডে ২০ হাজার ৯৬৮টি পদ শূন্য রয়েছে।

ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ (এমআরএ) ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ (সিএজি) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে শূন্য পদের বিবরণ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাতে শুরু করেছে। তবে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে একটি বিসিএস বা অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে গড়ে দেড় থেকে দুই বছর সময় ব্যয় হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন জানান, দেশে শিক্ষিত বেকারের উপস্থিতির বিপরীতে সরকারি পদ খালি থাকা একটি কাঠামোগত দুর্বলতা। শূন্য পদে নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা জরুরি। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সময় ও ব্যয় কমাতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে নিয়োগ কার্যক্রম গতিশীল করার পাশাপাশি পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও (পিএসসি) নিয়োগ পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি ও সিলেবাস আধুনিকায়নের কাজ করছে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.