লিবিয়ার তেল স্থাপনা সুরক্ষায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হুঁশিয়ারি
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লিবিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শনিবার ইউনাইটেড নেশনস সাপোর্ট মিশন ইন লিবিয়া (আনসমিল) এই সতর্কবার্তা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে আনসমিল জানায়, শারারা-জাবিয়া তেল পাইপলাইনে অব্যাহত অচলাবস্থা লিবিয়ার জাতীয় আয়ের প্রধান উৎসের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এর ফলে তেল উৎপাদন ও সরকারি রাজস্বে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
মিশনটি আরও উল্লেখ করে, এই দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের কারণে সারা দেশের নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এটি সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ন্যায্য আর্থ-সামাজিক দাবি তুলে ধরার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে আনসমিল সব পক্ষকে তেল ও জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে কারিগরি ও পরিচালনা কর্মীদের নিরাপদ চলাচল ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়।
সংস্থাটি জানায়, তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং সরকারি সম্পদকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে। যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা উচিত এবং সকল লিবীয় নাগরিকের স্বার্থে এসব সম্পদ রক্ষা করা প্রয়োজন।
আনসমিল বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলে, লিবিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বা ক্ষতিকর পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে গণ্য হতে পারে, যার মধ্যে ২০১৫ সালের রেজল্যুশন ২২১৩ অন্তর্ভুক্ত। ২০১৫ সালের মার্চে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত এই রেজল্যুশন ২২১৩ অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড লিবিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং তেল স্থাপনার ওপর হামলাও অন্তর্ভুক্ত।
তেল শোধনাগার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে, অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ পুনরায় চালু করতে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে মিশনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
এর আগে লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল কর্পোরেশন (এনওসি) সোমবার জানায়, একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী শারারা ক্ষেত্রকে জাবিয়া বন্দরের সাথে যুক্ত করা অপরিশোধিত পাইপলাইনের ৭ নম্বর ভালভটি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে দেশটির বৃহত্তম তেলক্ষেত্রে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দক্ষিণে মুরজুক মরুভূমিতে অবস্থিত শারারা তেলক্ষেত্রের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল।
এনওসি সতর্ক করে জানায়, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শারারার তেল উৎপাদন, পরিবহন ও রপ্তানি স্থবির হয়ে পড়তে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে, জাবিয়া শোধনাগারের কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং লিবিয়ার জ্বালানি আমদানি খরচ বহুগুণ বাড়বে। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে সংস্থাটি 'ফোর্স ম্যাজিউর' বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করতে পারে বলেও জানায়।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর পেট্রোলিয়াম ফ্যাসিলিটিজ গার্ডের সদস্যরা হামাদা-জাবিয়া প্রধান পাইপলাইনও বন্ধ করে দেয়, যার ফলে তিনটি তেল কেন্দ্রের উৎপাদন ও কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়। এনওসি সতর্ক করে জানায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণের সক্ষমতা নষ্ট হবে।
হামাদা ক্ষেত্রটি পশ্চিম লিবিয়ার গাদামেস অববাহিকার হামাদা আল-হামরা এলাকায় ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার (২৫০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত। এটি পশ্চিম লিবিয়ার অন্যতম প্রধান তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র এবং এখান থেকে দৈনিক প্রায় ৭০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়।
আর্থিক ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত দাবি নিয়ে লিবিয়ার পেট্রোলিয়াম ফ্যাসিলিটিজ গার্ডের সদস্যদের আন্দোলনের জেরে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে তাদের দাবি মেনে নিতে চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে রক্ষীরা ধারাবাহিক এই পাইপলাইন বন্ধের পদক্ষেপ নেয়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.