আপনি পড়ছেন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের সমালোচনাকারী বিভিন্ন দেশ ও শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদ্গার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তার এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে এবং নিজ অপরাধ ঢাকতে দায় এড়ানোর অপচেষ্টা হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর আক্রমণাত্মক বক্তব্য: বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে পোডিয়ামের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই সভাকক্ষ থেকে বহু দেশের প্রতিনিধি একযোগে ওয়াকআউট করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সভাকক্ষ ত্যাগকারী প্রতিনিধিদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দেন।

এরপর দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই দেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া নৃশংস হামলায় দশ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে তিনি তুরস্ক, কাতার এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিসহ বিভিন্ন সমালোচকদের ওপর চড়াও হন।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে চলা সমালোচনাকে অপতথ্য, রাজনৈতিক শত্রুতা এবং জনমত প্রভাবিত করার সুসংগঠিত প্রচারণার ফল বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু।

তবে তার এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। তুরস্কের যোগাযোগ পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান জানান, আঙ্কারা এবং প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলতে এবং গাজা থেকে দৃষ্টি সরাতে নেতানিয়াহু জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করেছেন।

তুরস্কের আঞ্চলিক নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করায় নেতানিয়াহুর তীব্র নিন্দা জানিয়ে দুরান বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে নেতানিয়াহুর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও জঘন্য মন্তব্য তার গণহত্যা, গাজার মানবিক বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন বিচার প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে পারবে না।’

যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতারও। বিদেশে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার যে অভিযোগ নেতানিয়াহু তুলেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে দোহা। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক মঞ্চে ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু।

মাজেদ আল-আনসারি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হওয়া এই মনোভাবকে প্রচারণা বলে খাটো করা মানে সেই সচেতন প্রজন্মের বিচারবুদ্ধিকে অপমান করা, যারা চোখের সামনে গাজার বাস্তব পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করছে।’ ইসরায়েলকে বলির পাঁঠা না খুঁজে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত কাতারের উপ-রাষ্ট্রদূত হামাদ আল-মুফতাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘জাতিসংঘে তার বক্তব্যের সময় প্রায় অর্ধেক ফাঁকা কক্ষই বলে দেয় তার কথার প্রতি সমর্থন ঠিক কতটা।’ তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের ঘটনায় অনুতপ্ত হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে থাকা নেতানিয়াহুর একটি ছবিও প্রকাশ করেন।

আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাতারের অর্থায়নের বিষয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিরোধিতা করে আল-মুফতাহ জানান, এই অনুদান দোহার এডুকেশন সিটিতে পরিচালিত মার্কিন ক্যাম্পাসগুলোর সহায়তায় দেওয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া হামাস প্রতিনিধিদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কাতারের এই যোগাযোগের কারণেই ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও মিশরের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতা পরিচালনা সম্ভব হয়েছে।

রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও আক্রমণ চালান নেতানিয়াহু। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী মেয়র’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, মামদানি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইহুদি বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একই সঙ্গে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তোলায় মামদানির সমালোচনা করেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনি আমাকে এখানে আসতে বাধা দিতে চেয়েছিলেন। আপনি আমার মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপনি আমাকে থামাতে পারবেন না।’

মামদানি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানান, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নিপীড়ন আড়াল করতেই নেতানিয়াহু একের পর এক ভিত্তিহীন মিথ্যাচার করছেন। এর আগে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পূর্বে মেয়রের বাসভবনে ফিলিস্তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে জলপাই গাছ রোপণ করে মামদানি লিখেছিলেন, ‘শান্তিই হোক আমাদের ভবিষ্যৎ।’

এছাড়া মার্কিন রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার হাসান পাইকারের পুরনো একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেও আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। এক লাইভস্ট্রিমে পাইকার নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্যের জবাব দেন এবং বিশ্বসভার মঞ্চে এসে একজন প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের তুচ্ছ ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.