ইরান: মার্কিন হামলার জবাবে আমরা ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে তেহরান প্রস্তুত, তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পুনরায় সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব দিতেও পুরো প্রস্তুতি রয়েছে। রোববার এমন মন্তব্য করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাত দিনের একটি রূপরেখা বা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে আরাঘচি বলেন, ‘আমরা কূটনীতির জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে আমরা যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছি।’
তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে তারা শুনেছেন, তবে এখনও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তেহরানের উত্থাপিত দাবি অনুযায়ী ওয়াশিংটন যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়, তবেই তারা হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ বন্ধ করা, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা এবং ইরানকে তাদের তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব অত্যন্ত স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র যদি নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে আমরা প্রণালীটি খুলে দিতে প্রস্তুত।’
আরাঘচি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিতে সক্ষম। প্রস্তাবিত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, ষষ্ঠ দিনে ইরান প্রণালীটি খুলে দেবে এবং সপ্তম দিনে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং দেশটির ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে গভীর অনাস্থা প্রকাশ করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ২০২৫ ও ২০২৬ উভয় বছরই আলোচনা চলাকালে ইরানে হামলা চালানোর এবং স্বাক্ষরের পরপরই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, ‘কূটনীতির আশা সবসময়ই থাকে। আমি এখনও কূটনৈতিক উপায়ের চেষ্টা করছি, কারণ আমি মনে করি শান্তির কোনো সুযোগই আমাদের হাতছাড়া করা উচিত নয়।’
ট্রাম্পের ওপর তার আস্থা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আরাঘচি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ওপরই আস্থা রাখি।’
গত জুনের সমঝোতা স্মারক ইরান প্রথম লঙ্ঘন করেছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে আরাঘচি জানান, ওয়াশিংটন যদি সত্যিই তা মনে করত, তবে ইরানে বোমা হামলার পরিবর্তে তারা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত ধারাটি প্রয়োগ করতে পারত।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরবর্তী হামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আরাঘচি জানান, আগের লড়াইগুলো থেকে ইরান শিক্ষা নিয়েছে এবং তাদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তার মোকাবিলার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। যেকোনো নতুন আগ্রাসনের মুখে আমরা অবিচল থাকব, এমনকি যদি তা প্রলয়ংকরী যুদ্ধের রূপ নেয়। তবে একই সঙ্গে আমরা কূটনীতির জন্যও প্রস্তুত রয়েছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, পুনরায় সামরিক সংঘাত নাকি আলোচনা—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চিকিৎসাসহ কেবল ‘শান্তিপূর্ণ’ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত ছিল ইরান।
সাত দিনের প্রাথমিক প্রস্তাবে পারমাণবিক বিষয়টি কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমরা পারমাণবিক সংক্রান্ত সবকিছু পরবর্তী ধাপের জন্য রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বর্তমান ধাপে পারস্পরিক আস্থা তৈরির ওপর জোর দিয়েছি।’
তিনি যুক্তি দেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্ন সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা উচিত।
গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কেন জনসমক্ষে কোনো ভিডিওতে উপস্থিত হননি—এমন প্রশ্নের জবাবে নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন আরাঘচি। তিনি জানান, সর্বোচ্চ নেতার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হুমকি থাকার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।
আরাঘচি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত তার মন্তব্য, আদেশ ও মতামত পাচ্ছি।’
ইরানে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাকেন্দ্র রয়েছে—এমন ধারণাও সরাসরি নাকচ করে দেন তিনি। তিনি জানান, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকার, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি), সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং পার্লামেন্টের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখেই কাজ করছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.