মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদ ২০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন সামরিক বাহিনীতে জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের জন্য সংরক্ষিত পদের সংখ্যা ২০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে নেওয়া এই পদক্ষেপ সামরিক নেতৃত্বের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। ভার্জিনিয়ার মেরিন কোর বেস কোয়ান্টিকোতে কনিষ্ঠ কর্মকর্তা ও সাধারণ সৈনিকদের উদ্দেশে দেওয়া ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ ভাষণে বুধবার হেগসেথ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে পদ কমানোর পদক্ষেপগুলোকে আমলাতন্ত্র হ্রাসের উপায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হেগসেথের সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হতে পারে অভিজ্ঞ কমান্ডারদের একপাশে সরিয়ে দেওয়া, ভিন্নমত দমন করা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগত কর্মকর্তাদের শীর্ষ পদে বসানো।
পেন্টাগন কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সংখ্যা কমাতে আগে নেওয়া ১০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তকে দ্বিগুণ করবেন হেগসেথ। এর ফলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে মোট ২০ শতাংশ পদ হ্রাস পাবে। এই পরিকল্পনার আওতায় এক থেকে চার তারকা পদমর্যাদার প্রায় ৮০০ জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পদ প্রভাবিত হবে।
জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা নির্ধারণে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দিষ্ট আইনি সীমা রয়েছে। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, অনুমোদিত সর্বোচ্চ ৮৫৭টি পদের বিপরীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৮৪৮ জন জেনারেল ও অ্যাডমিরাল সক্রিয় দায়িত্বে ছিলেন। তবে পদ বিলুপ্ত করার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক কর্মকর্তা জানান, কিছু পদ পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হবে এবং অন্য কিছু পদের দায়িত্ব তুলনামূলক নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর অর্পণ করা হবে।
জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদ কমানোর এই বিতর্ক হেগসেথের দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই চলে আসছে। সংস্কারের সমর্থকদের যুক্তি, কমান্ড কাঠামোর ধাপ কমে গেলে প্রশাসনিক কাজের চাপ কমবে এবং সামরিক অভিযানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওয়াল্টার লাডউইগ আল জাজিরাকে জানান, সংস্কারের এই দাবির পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘শীতল যুদ্ধের অবসানের পর থেকে সামগ্রিক বাহিনীর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেও ফ্ল্যাগ অফিসারের সংখ্যা সেই অনুপাতে কমেনি। একই সঙ্গে সদর দপ্তর এবং স্টাফ কর্মকর্তাদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি এবং হেগসেথ ইতোমধ্যে দুই ডজনেরও বেশি সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত কিংবা অবসরে পাঠিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২০২৫ সালের এপ্রিলে বরখাস্ত হওয়া মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল র্যান্ডি জর্জ এবং ফেব্রুয়ারিতে অপসারিত চিফ অব নেভাল অপারেশনস অ্যাডমিরাল লিসা ফ্র্যাঞ্চেত্তি। এছাড়া চার তারকা পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারী একমাত্র দুজন নারী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নারী কর্মকর্তাদেরও অব্যাহতি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের ব্যাপক রদবদলের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি কিউ ব্রাউনকেও বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। এর বাইরে বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেও পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বিষয়ে হেগসেথের পদক্ষেপে দ্বিমত পোষণ করে আগস্টের শেষের দিকে পদত্যাগ করেন সেনা সচিব ড্যান ড্রিসকল।
এসব বরখাস্ত এবং পদোন্নতি স্থগিতের ঘটনা প্রশাসন কীভাবে কমান্ডারদের নির্বাচন করছে এবং পেশাগত মতপার্থক্য কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক স্টাডিজের প্রভাষক রবার্ট রালস্টন আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই পদ সংকোচন মেধার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে শীর্ষ পদগুলো পূরণে হেগসেথের একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার অংশ বলেই মনে হচ্ছে। আমার দৃষ্টিতে, এসব সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনীতিই মূল ভূমিকা পালন করছে।’
অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি পেন্টাগনে হেগসেথের নেওয়া পরিবর্তনের সমালোচনা করেছেন। এমএস নাউ-এর মর্নিং জো অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই মুহূর্তে পেশিশক্তির প্রদর্শনের চেয়ে আরও উন্নত নেতৃত্বের প্রয়োজন। এত বিপুলসংখ্যক অ্যাডমিরাল ও জেনারেলকে বরখাস্ত করার অর্থ হলো আমরা একটি চমৎকার প্রজন্মের নেতৃত্বের একটি বড় অংশ হারাচ্ছি।’
যুক্তরাজ্যের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুদ্ধ ও প্রযুক্তি বিষয়ক অধ্যাপক ডেভিড গ্যালব্রেথ আল জাজিরাকে জানান, কংগ্রেস ও সামরিক নেতৃত্বের প্রতিরোধ এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। সামরিক ও কংগ্রেসীয় চাপ কীভাবে একজন প্রেসিডেন্টকে সীমিত করতে পারে, তার উদাহরণ হিসেবে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন স্থল সেনা প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া বাধার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, নির্বাচনের পর কংগ্রেস অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নেবে এবং হেগসেথের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অভিশংসন প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।’
সেই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা মূলত নির্ভর করছে কংগ্রেসের নির্বাচনে উভয় কক্ষে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকার ওপর। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হেগসেথের কার্যকাল নানা বিতর্ক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে টানাপোড়েনে ভরা। ২০২৫ সালের মার্চে ইয়েমেনে আসন্ন হামলার সংবেদনশীল গোপন তথ্য তিনি একটি সিগন্যাল চ্যাট গ্রুপে শেয়ার করেছিলেন, যেখানে অসাবধানতাবশত দ্য আটলান্টিক সাময়িকীর প্রধান সম্পাদকও যুক্ত ছিলেন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.