আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটনকে নতুন গঠিত ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’-এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসনটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক কৌশলগত পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে এলেন তিনি।

ট্রাম্পের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশলের নেতৃত্বে গোয়েন্দাপ্রধান ক্লেটন
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটন

সরকারি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ (এসআই) ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই রবিবার এই নতুন বাহিনী গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ট্রাম্প জানান, উন্নত প্রযুক্তির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখা এবং আমেরিকানদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই সংস্থা ফেডারেল পর্যায়ের কাজ সমন্বয় করবে।

এই ঘোষণার পাঁচ দিন আগে হোয়াইট হাউসে শীর্ষ প্রযুক্তি নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। এতে অংশ নেন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং, অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোতেই, এক্সএআই-এর প্রধান ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান। সেখানে তারা উন্নত এআই ব্যবস্থার সুরক্ষায় একটি স্বেচ্ছা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। নতুন এই সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্সের নেতৃত্বে আরও রয়েছেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, পেন্টাগনের প্রযুক্তি প্রধান এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপোর।

জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় ক্লেটনের এই নিয়োগ মূলত এআই প্রযুক্তির নেতৃত্বকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে জোরালো করেছে।

কে এই জে ক্লেটন?

আইনজীবী হিসেবে জে ক্লেটনের কর্মজীবন অর্থায়ন, নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ এবং জাতীয় নিরাপত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০১৭ সালে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে প্রথমবারের মতো সরকারে নিয়ে আসেন। এই সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসইসির নেতৃত্ব দেন ক্লেটন। অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের (ওডিএনআই) আনুষ্ঠানিক জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা হয়, তার মেয়াদে সংস্থাটি ২ হাজার ৩০০টিরও বেশি প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। সরকার ছাড়ার পর তিনি আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সুলিভান অ্যান্ড ক্রমওয়েলে জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা ও অফ কাউন্সেল হিসেবে ফিরে যান এবং অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের বোর্ডের স্বতন্ত্র চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্লেটন ফের সরকারি দায়িত্বে ফেরেন এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি হন। তার মেয়াদে দপ্তরটি সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং অন্যান্য জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয় তদারকি করে। সিনেটের অনুমোদনের পর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তিনি নিউ ইয়র্কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ৩ আগস্ট জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে শপথ নেন। এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এবং প্রেসিডেন্টের প্রধান গোয়েন্দা উপদেষ্টা হন।

কী করবে সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স?

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ক্লেটন জানান, উন্নত এআই-এর ঝুঁকি ও সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে এবং ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নির্ধারণ করতে এই বাহিনীকে ১২০ দিন সময় দেওয়া হবে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এই বাহিনীর নীতিমালায় বলা হয়েছে, তারা সমাজের ওপর এসআই-সৃষ্ট হুমকি মোকাবেলার পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং একইসঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ করবে যা উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এআই প্রযুক্তির বিকাশ ধীর করা উচিত কি না—সে সংক্রান্ত ব্যাপক বিতর্কের মধ্যেই এমন উদ্যোগ এলো। কিছু গবেষক ও প্রযুক্তি নির্বাহীর সতর্কতা রয়েছে যে, শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে ক্রমাগত স্বায়ত্তশাসিত হওয়া ব্যবস্থাগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

এই কাঠামোর আওতায় বিদ্যমান আইন ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা, প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে পরামর্শ করা এবং তথ্য লঙ্ঘন, হ্যাকিং, মডেল জেলব্রেকসহ অন্যান্য এআই সংক্রান্ত ঘটনার তথ্য কীভাবে সরকারের কাছে পৌঁছাবে তা পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান কর্তৃপক্ষের অধীনে ফেডারেল প্রতিকার ব্যবস্থার উন্নয়নেও এটি সুপারিশ করবে। এর কার্যক্রম পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থায় স্থানান্তর বা বাড়ানো হতে পারে। তবে বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ নীতিমালাটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

গোয়েন্দাপ্রধানকে বেছে নেওয়ার কারণ

ক্লেটনকে এই পদে বেছে নেওয়া উন্নত এআই প্রযুক্তিকে কেবল বাণিজ্যিক বা প্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে না দেখে বরং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রযুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি কৌশলগত প্রতিযোগিতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

২৯ সেপ্টেম্বর প্রযুক্তি নির্বাহীদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘যিনি সুপার ইন্টেলিজেন্সে জিতবেন, তিনিই জয়ী হবেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং এই প্রাধান্য ধরে রাখতে চায়। একই অনুষ্ঠানে তিনি এআই পরিচালনায় বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেন, এতে চীন এমন কিছু জানার সুযোগ পাবে যা যুক্তরাষ্ট্র জানে কিন্তু চীন জানে না।

একই ধরনের গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে ক্লেটনের বক্তব্যেও। সিনেটের শুনানিতে তিনি এআই প্রযুক্তিকে ‘গেমচেঞ্জার’ এবং একইসঙ্গে ‘একটি হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আইনপ্রণেতাদের তিনি বলেন, ‘যখন কোনো কিছু একই সাথে সুযোগ এবং হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন এটিকে শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়াই শ্রেয়।’ পরবর্তীতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ক্লেটন সুপার ইন্টেলিজেন্সকে একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘প্রথম হতে না পারার ঝুঁকিটি অনেক বেশি।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.