পূর্ব জেরুজালেমের কনস্যুলেট চালু রাখতে চায় যুক্তরাজ্য
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার উদ্যোগ নিলে ইসরায়েলের ২৭ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য। এ ঘটনায় উভয় দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নজিরবিহীন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে কূটনীতিক বহিষ্কারের এই সতর্কবার্তার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।

সোমবার ইসরায়েলি গণমাধ্যম ইনেট প্রথম এই সতর্কবার্তার খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন ওয়াল্টার্স ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে লন্ডনও কনস্যুলেট বন্ধের পদক্ষেপের বিপরীতে সমানুপাতিক হারে ব্যবস্থা নেবে। এমন পদক্ষেপ লন্ডনে অবস্থিত ইসরায়েলের কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম কার্যত অচল করে দিতে পারে, যা ইতিমধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।
তবে বার্তা সংস্থা আনাদোলুর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন কার্যালয় (এফসিডিও) এই হুমকির খবর নিশ্চিত করেনি। কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমি আপনাদের গুঞ্জন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেব। জল্পনা-কল্পনা কিংবা চলমান কোনো আলোচনা নিয়ে আমরা মন্তব্য করব না।’
প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি ৩০ দিনের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। তারই প্রেক্ষিতে এই কূটনৈতিক বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর ব্রিটেন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’র কনস্যুলেটটি বন্ধের নির্দেশ দেন।
ইসরায়েল সরকার ব্রিটেনের এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সা’র যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাকে ‘নৈতিক বিকৃতি’ বলে অভিহিত করেন এবং লেবার সরকারের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতি বৈরী মনোভাব প্রদর্শনের অভিযোগ তোলেন।
ইনেট আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি কূটনৈতিক সূত্রগুলো স্পষ্ট করেছে যে কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দেবে ইসরায়েল। ওই সংবাদমাধ্যম সূত্রগুলোকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘ইসরায়েল অতীতে দেখিয়েছে যে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের সমপরিমাণ জবাব তারা দেবে এবং তারা তা আবারও দেখাবে।’
উত্তেজনা নিরসনে এবং পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি চালু রাখতে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরোধ নিষ্পত্তি ও কনস্যুলেট চালু রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল গত সপ্তাহে গোপনে ইসরায়েল সফর করেন। তবে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কোনো ফলপ্রসূ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
কনস্যুলেট বন্ধের জন্য লন্ডনকে মাত্র ৩০ দিন সময় দেওয়ার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই কনস্যুলেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এটি বন্ধ হয়ে গেলে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার প্রতি ইসরায়েল সরকারের প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, ‘ইসরায়েল সরকার যা ঘোষণা করেছে তার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, তবে আমরা যা করেছি তার জন্য আমি গর্বিত এবং এটি সঠিক কাজ ছিল।’
কনস্যুলেট নিয়ে সম্ভাব্য ব্রিটিশ প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের জল্পনা প্রত্যাখ্যান করে তিনি এর আগে বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কোনো জল্পনা করতে চাই না, তবে আমরা চাই না এমন কিছু ঘটুক। এটি ওই সম্প্রদায়গুলোর মানুষকে সহায়তা করার যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমরা করছি, তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কনস্যুলেটটি সেখানে প্রায় ২০০ বছর ধরে রয়েছে এবং এটি আমাদের দীর্ঘদিনের একটি অবস্থান। সুতরাং এটি এমন একটি আলোচনা যা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি, তবে আমরা চাই না এটি ঘটুক।’
অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার পর দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। ব্রিটিশ সরকার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি এবং বৃহত্তর সংঘাতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তাদের এই নিষেধাজ্ঞার নীতিকে সমর্থন করেছে।
এদিকে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং এর কূটনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। লাপিদ বলেন, ‘পুরো বিশ্বের সঙ্গে লড়াই করা কোনো নীতি নয়। এর অর্থ কার্যত লন্ডনে আমাদের দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া। এতে ইসরায়েলের কী লাভ হবে?’
পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের জন্য নির্ধারিত ৮ অক্টোবরের সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এই উত্তেজনার সমাধান সম্ভব কি না সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.