দিল্লিতে বিক্ষোভের মুখে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি আটক
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রেখে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তল্লাশির মধ্যে শনিবার বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও।

‘ককরোচ’ নামের একটি যুব আন্দোলনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই বিক্ষোভের লক্ষ্য ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার মানুষকে সমবেত করা। সমালোচকদের অভিযোগ, সম্প্রতি ভোটার তালিকায় যে সংশোধন আনা হয়েছে, তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক কেন্দ্রস্থলে পিঠে ব্যাগ নেওয়া বেশ কয়েকজন তরুণ বিক্ষোভকারীকে তাড়া করছে পুলিশ। পরে তাদের আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই এলাকা থেকে প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া দিল্লির বাইরে থেকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এই বিক্ষোভের অন্যতম সমর্থক ও জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি রয়েছেন বলে পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।
মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত থাকার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ধরতে পুলিশ শহরের প্রবেশমুখে বাস থামিয়ে তল্লাশি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহনেও তল্লাশি চালানো হয়।
যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে রাস্তায় ব্যারিকেড ও কংক্রিটের ব্লক বসানো হয়। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের সরঞ্জামসহ দাঙ্গা দমন গাড়ি মোতায়েন করা হয়।
শনিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষকে প্রধানমন্ত্রী এত ভয় পাচ্ছেন কেন?’
আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে বার্তা সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, ‘রেল ও মেট্রো বন্ধ করার কী প্রয়োজন ছিল, ইন্টারনেট এবং সড়ক কেন বন্ধ করা হলো? ...এটি ভীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।’
বিক্ষোভকারীরা জানান, সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে তারা জমায়েত হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ককরোচ জনতা পার্টির মতে, ‘গণতন্ত্র রক্ষা’র অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তার অধস্তন কর্মকর্তারা দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। এরপর গত সপ্তাহে শুরু হওয়া ধারাবাহিক বিক্ষোভের মধ্যে এটিই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। এই বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।
বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের সুবিধার জন্য ভোটার তালিকা হেরফের করার অভিযোগ করে আসছে এবং ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তারা নতুন করে এ নিয়ে সরব হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কুমার কোনো মন্তব্য না করলেও নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিজেপির দাবি, মোদির জনপ্রিয়তা ও ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই তাদের নির্বাচনী সাফল্যের মূল কারণ। নির্বাচনে জয়ী হতে না পেরে বিরোধী দলগুলো দেশকে বিভ্রান্ত করছে বলেও দলটি অভিযোগ করে।
তবুও বিরোধী দলগুলোর এই প্রায় দৈনন্দিন বিক্ষোভ মোদির জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মাত্র কয়েক মাস আগেই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিক্ষোভের জেরে তার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
এছাড়া ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল ও বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তর প্রদেশসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো।
শুক্রবার দিল্লি পুলিশ জানায়, তারা এই বিক্ষোভের কোনো অনুমতি দেয়নি এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, তাদের ‘সাময়িক ও সতর্কতামূলক’ বিধিনিষেধের লক্ষ্য মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ভিড় রোধ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে পুলিশের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা জানান, বিক্ষোভ প্রদর্শন তাদের মৌলিক অধিকার এবং তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারসহ নির্বাচন কমিশনে নিজেদের নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের যোগসাজশে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ব্যবহার করছে বিজেপি।
বিরোধী দলগুলোর ভাষ্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ায় সম্প্রতি বিজেপির জয় পাওয়া কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে এবং এটি বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কালো ছায়া ফেলেছে।
বিজেপির দেওয়া তথ্য এবং নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন এমন ভোটার ৬ কোটি ৩০ লাখ, খোঁজ মেলেনি ৩ কোটি জনের এবং মৃত ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ৮০ লাখ।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, খসড়া সংশোধনের পর্যায়ে চিহ্নিত ভোটারদেরই এই পরিসংখ্যানে তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং ভুলবশত কারও নাম বাদ পড়লে তারা পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.