আপনি পড়ছেন

লন্ডনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক হালাল ফোরামের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী সকালের নাশতার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অধিবেশনে ফিলিস্তিনি খাদ্যসংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে বিশেষ মর্যাদায় উদযাপন করা হয়।

ফিলিস্তিনি নাস্তায় শুরু হলো লন্ডন হালাল ফোরাম
লন্ডন হালাল ফোরামের সম্মেলন কেন্দ্র

লন্ডনের কুইন এলিজাবেথ দ্বিতীয় সেন্টারে ‘হালাল৩৬০’-এর আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিডি) এবং হালাল প্রোডাক্টস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির (এইচপিডিসি) একটি যৌথ উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে বৈশ্বিক যোগাযোগ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সকালের নাশতায় পরিবেশন করা হয় হুম্মুস, জাতার, লাবনেহ এবং ফালাফেলের মতো ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী সব খাবার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইবনে খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান বিলাল এরদোয়ান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের বিষয়ে সংবেদনশীল এবং মানবতার বিবেকের প্রতি যত্নশীল এমন একদল প্রতিনিধির সঙ্গে এই ফোরামে একত্রিত হতে পারা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন বছরে এই মানবিক বিবেক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইস্তাম্বুলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনপন্থী বিশাল সমাবেশের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ফিলিস্তিনকে স্মরণ করতে আগামী বছরের ১ অক্টোবর জনগণ আবারও রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের কাছে গণহত্যার কথা তুলে ধরব। ফিলিস্তিনের ভাই-বোনদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করব, বিশেষ করে গত তিন বছরে এবং স্বাভাবিকভাবেই ১৯৪৮ সাল থেকে তারা যে নির্মম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার জন্য।’

তথাকথিত যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বজায় থাকার দাবি সত্ত্বেও অবরুদ্ধ গাজায় যে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট চলমান রয়েছে, সে বিষয়টিও তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত প্রতিদিন গণহত্যা চলছে। প্রতিদিন আমরা হামলার শিকার হচ্ছি, প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ঘটছে। শুধু গাজায় নয়, পশ্চিম তীরেও এমনটা চলছে।’

অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেমের পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে সতর্ক করেন বিলাল এরদোয়ান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাঙ্ক্ষিত ও ইতিবাচক ফলাফল নিশ্চিত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে সম্পদ ও সক্ষমতার কৌশলগত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর সম্প্রতি কিছু পশ্চিমা দেশের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একটি সূচনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করা যায়, কোনো এক সময় তারা সব ইসরায়েলি পণ্যের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বিস্তৃত করবে।’

এরদোয়ান আরও বলেন, ‘এই নাশতাটি মূলত সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই একটি বাস্তব রূপ, যা আমাদের এখনই করা প্রয়োজন। অর্থাৎ আমাদের অঞ্চলের উৎপাদক, বিনিয়োগকারী এবং নতুন উদ্যোগগুলোকে প্রকৃত অর্থেই শক্তিশালী করে তোলা।’ তিনি উল্লেখ করেন, এই কার্যক্রমটি তৃণমূল পর্যায় থেকে খাবারের হাত ধরে শুরু হলেও পরবর্তীতে তা প্রযুক্তি, ওষুধসহ অন্যান্য উচ্চমূল্যের খাতে সম্প্রসারিত হওয়া উচিত।

তুরস্ক সম্ভাব্য সবকিছু করে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের বিষয়টি যেকোনো রাজনৈতিক সীমারেখা ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে।

ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকা শীর্ষ তুর্কি কর্মকর্তাদের তালিকায় নাম থাকায় তিনি সেখানে যেতে পারছেন না—সংবাদমাধ্যমের এমন খবরের প্রসঙ্গে বিলাল এরদোয়ান জানান, অদূর ভবিষ্যতে তিনি আল-আকসা মসজিদ পরিদর্শন করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা শান্তিতে ও সম্প্রীতির সঙ্গে আল-কুদসে একত্রিত হয়ে এ ধরনের বৈঠক সম্পন্ন করতে পারব।’

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলত বলেন, গাজায় গণহত্যা চলছে এবং পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধনযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে আসছে, যা কয়েক দশক ধরে চলমান রয়েছে।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সুলুহ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারপারসন নুরুল ইজ্জাহ আনোয়ার এবং আইসিসিডির মহাসচিব ইউসেফ খালাভি। এ ছাড়া লন্ডনে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ওসমান কোরায় এরতাসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি জাদুঘরের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের প্রকৃত রূপ বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা।

‘মানবতার জন্য হালাল তাইয়্যেব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফোরামটি কেবল খাদ্য ও সনদের গণ্ডি পেরিয়ে হালাল অর্থনীতিকে বিনিয়োগ, পর্যটন, প্রযুক্তি, সরবরাহ চেইন, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সম্প্রসারণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে এক্সেল লন্ডনে এই ফোরামের প্রথম আসর বসেছিল। সেই অনুষ্ঠানে সশরীরে এবং ভার্চুয়ালি ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন, যা ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে লন্ডনের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিল।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.