আপনি পড়ছেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংশ্লিষ্ট বাজারে বড় ধরনের দরপতন বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলতে পারে। বিনিয়োগ ও মুনাফার উচ্চাশা পূরণ না হলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এবং বিদ্যমান আর্থিক দুর্বলতাগুলো এই ধাক্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মঙ্গলবার সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ধাক্কা নিয়ে আইএমএফের সতর্কতা
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে সংস্থাটির অক্টোবর মাসের ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট’ উপস্থাপনকালে বলা হয়, বারবার নানা ধাক্কা ও তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাজারগুলো টিকে থাকলেও আর্থিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি এখনও বেশ উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে।

আইএমএফের মনেটারি অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেটস বিভাগের কর্মকর্তা আথানাসিওস ভামভাকিদিস জানান, প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বলিষ্ঠ করপোরেট আয় এবং এআই খাত নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব বৈশ্বিক বাজারগুলোকে চাঙা রাখতে সহায়তা করেছে।

তবে বাজারগুলোর এই টিকে থাকার সক্ষমতাকে আর্থিক ব্যবস্থা পুরোপুরি নিরাপদ থাকার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

আইএমএফ আর্থিক খাতে তীব্র চাপ তৈরির পেছনে তিনটি প্রধান ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে এআই-সংশ্লিষ্ট বাজারের দরপতন, সার্বভৌম বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি এবং আর্থিক সেবা ব্যাহত করা কিংবা আস্থা নষ্ট করতে পারে এমন সাইবার হামলা।

সংস্থাটির মতে, বিনিয়োগ বা মুনাফার প্রত্যাশা পূরণ না হলে এআই খাতে দরপতন দেখা দিতে পারে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির চাপ, রাজস্ব ভারসাম্যহীনতা এবং সরকার ও বেসরকারি খাতের বিপুল পরিমাণ ঋণ সার্বভৌম বন্ড বাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

পৃথকভাবে এই হুমকিগুলো সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও আর্থিক ব্যবস্থায় আগে থেকেই বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো এদের নেতিবাচক প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

আইএমএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, এআই, বন্ড বাজার এবং জ্বালানিসংশ্লিষ্ট মারাত্মক সংকট অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালিত ব্যাংকিং খাতের স্ট্রেস টেস্টে দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে ব্যাংকগুলো স্থিতিশীল রয়েছে।

তবুও এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক দুর্বল কিছু ব্যাংক অপর্যাপ্ত মূলধনের সংকটে পড়বে এবং এমন ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বীমা কোম্পানি, পেনশন তহবিল, বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং হেজ ফান্ডসহ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকির কথাও প্রতিবেদনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বীমা কোম্পানি ও পেনশন তহবিলের কাছে এমন সম্পদ বেশি রয়েছে যা সংকটের সময় দ্রুত নগদায়ন করা কঠিন। ফলে অর্থনৈতিক মন্দার সময় তারা বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারে। অন্যদিকে বেসরকারি ঋণ খাত ঋণগ্রহীতাদের মাত্রাতিরিক্ত ঋণভার ও তারল্য সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যা নতুন ঋণ বিতরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

হেজ ফান্ডগুলো বাজারকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে, তবে তাদের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ এবং একই ধরনের লেনদেনে অতিমাত্রায় ঝুঁকে থাকা পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে সার্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোও সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে। তবে কিছু দেশের অর্থনীতিতে দুর্বল নীতিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট কিছু সীমান্ত বাজারে অস্বচ্ছ বিকল্প অর্থায়নের উৎস নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

নতুন কোনো ধাক্কা আসার আগেই আর্থিক সহনশীলতা জোরদার করতে নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইএমএফ। একই সঙ্গে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, মাত্রাতিরিক্ত সরকারি ঋণ এবং নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার সীমিত সুযোগ দেশগুলোর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপকে জটিল করে তুলতে পারে।

আইএমএফের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি ঋণকে একটি টেকসই পর্যায়ে রাখা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা রক্ষা করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রায় অবিচল থাকা এবং গৃহীত নীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা।

এ ছাড়া শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জোর তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.